দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি কার্যক্রম আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীন দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বাংলাদেশ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেন বলেন, বুধবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে এমপিওভুক্ত কলেজগুলোর নন-এমপিও অনার্স-মাস্টার্ত স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি দাবি জানান। অক্টোবরের মধ্যে নীতিমালা সংশোধন করে দ্রুত এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল বাংলাদেশ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন।
এরপর বুধবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাংলাদেশ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির সর্বনিম্ন শিক্ষার্থী সংখ্যাকে এমপিও ভুক্তির ক্ষেত্রে কাম্য শিক্ষার্থী হিসেবে গণনা করার দাবি জানান শিক্ষকরা। গত ২ জুলাই অনার্স শিক্ষকদের ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সভায়।
বৈঠকে উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেওয়া শর্ত অনুযায়ী ৩ হাজার ৫০০ জন শিক্ষককে নীতিমালার অন্যান্য শর্তাবলী শিথিল করে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এমপিও কার্যক্রম শেষ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম প্রস্তাব করেন গত ২০ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরকে যে চিঠি দিয়েছিল; তাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ, অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতির পদ সৃষ্টি করে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় রেগুলেশন অক্ষুণ্ন থাকে।
মো. রফিকুল ইসলাম নন-এমপিও শিক্ষকদের যেহেতু অর্ধ-অভিজ্ঞতা গণনা করা হয়, একইভাবে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা গণনা করে পদোন্নতির প্রস্তাব করেন। অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও কলেজ স্তরের গ্রেডিং পদ্ধতি সহজতর করে ৩ হাজার ৫০০ জন শিক্ষকের এমপিওর নিঃশর্ত দাবি জানান।
সভায় বাংলাদেশ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেরাব হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ ও সহ-সভাপতি মো. জামির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের সভাপতি সেলিম মিয়া নীতিমালা শিথিল করে ননএমপিও প্রতিষ্ঠানের এমপিও দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষকরা বলেন, অন্যথায় আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই। নন-এমপিও ডিগ্রি প্রতিনিধি রায়হান কবির, ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক প্রতিনিধি উজ্জল, বিএড এমপিও ও নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরের নন-এমপিও প্রতিনিধিরা দ্রুত নীতিমালা প্রনয়ন করে এমপিওর দাবি জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভিন আগামী সপ্তাহের মধ্যে সর্বশেষ মিটিং করে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুততম সময় নীতিমালা প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান শিক্ষকরা।