১৭ দিনেও উদ্ঘাটন হয়নি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যার রহস্য। কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে তার ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ধরা পড়েনি প্রকৃত অপরাধীরা। এ ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করলেও তাদের এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। পুলিশও গ্রেফতারকৃতদের জড়িত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই জানাতে পারছে না।
গত ৭ অক্টোবর বিকালে হাটহাজারী থানাধীন মদুনাঘাট এলাকায় নিজ প্রাইভেটকারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আবদুল হাকিমকে। এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রাতে নিহতের স্ত্রী তাসফিয়া আলম তানজু বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীরা মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
নিহত আবদুল হাকিমের বাড়ি রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামে। তিনি এলাকায় বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় বালুর ব্যবসা, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার বলেন, ‘আবদুল হাকিম কোনও খারাপ কাজে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে যারা নির্মমভাবে প্রকাশ্যে গুলি খুন করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। অথচ ঘটনার ১৫ দিন চলে গেছে, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এখনও পুলিশ তা বের করতে পারেনি।’
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মদুনাঘাট এলাকায় সংঘটিত আবদুল হাকিম হত্যার ঘটনার তদন্ত চলছে। কারা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছি। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি জানা যাবে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন, ‘আবদুল হাকিম হত্যার ঘটনার তদন্ত চলমান। রাজনৈতিক কারণ, বালু ব্যবসা, এলাকায় আধিপত্যসহ সব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ হত্যা মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি, এ ঘটনায় জড়িত বাকি অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আানা সম্ভব হবে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে আবদুল হাকিম তার গ্রামের খামারবাড়ি থেকে অপর একজনসহ ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কাপ্তাই সড়ক হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় চালকের পাশের আসনে বসা ছিলেন তিনি। মদুনাঘাট এলাকায় পৌঁছালে একদল মোটরসাইকেল আরোহী অস্ত্রধারী তার গাড়ির পিছু নেয়। পানি শোধনাগার এলাকায় পৌঁছালে তারা আবদুল হাকিমের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবদুল হাকিম রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাচখাইন গ্রামের বাসিন্দা। ওই এলাকার হামিম অ্যাগ্রো নামে একটি গরুর খামারের মালিক তিনি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় (স্থগিত পদ) ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল হাকিম বিএনপির কেউ নয় বলে দাবি করা হয়েছে।