সরকার সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যদি ছোট ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা সরকারের কাছে আবেদন করেন, তাহলে সরকারের সামর্থ্যের মধ্যে তাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করা হতে পারে।’
তিনি জানান, শেয়ারবাজারের মাধ্যমে এসব ব্যাংকে বিনিয়োগ করা ছোট বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ সরকার উপলব্ধি করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যা প্রচলিত হিসাববিধির সীমার বাইরে গিয়ে একটি সহানুভূতিপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও বলেন, পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জটিল ও বহুস্তরীয় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ‘সরকার মার্চ মাসে এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে একটি ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।’
আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নতুন ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে শুধুমাত্র সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।’
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সরকার, আবেদনকারী হিসেবে, প্রথমে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্ম নিবন্ধক (আরজেএসসি)-এর কাছে আবেদন করবে নতুন কোম্পানি গঠনের জন্য। এই আবেদনে পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ার কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে।’
আরজেএসসি থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যাংক কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি বা অনুমোদন পেতে।
মুখপাত্র জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার পরই নতুন ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।’