রাজধানীর মৌচাকের ফরচুন শপিংমলের সম্পা জুয়েলার্সে ‘৫০০ ভরি’ স্বর্ণ চুরির মামলায় তিন আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলো– নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) ও অনিতা রায় (৩১)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, গত ১৭ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের লালবাগ জোনের উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাস তিন আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। শুনানির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করি। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গত ৯ অক্টোবর শম্পা জুয়েলার্সের মালিক অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা মডেল থানায় একটি চুরির মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি ও তার কর্মচারীরা বাসায় যান। পরদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মার্কেটের দারোয়ানের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে দেখেন দোকানে কোনও স্বর্ণালংকার নেই। তার দাবি, দোকানে ৫০০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল, এর মধ্যে ৪০০ ভরি দোকানের নিজস্ব স্বর্ণালংকার। আর ১০০ ভরি বন্ধকী স্বর্ণালংকার।
তদন্ত কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষিত দুর্ধর্ষ চোরচক্রের দুজন বোরকা পরে রশি বেয়ে ফরচুন শপিং মলের তৃতীয় তলার জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এরপর দোতলায় শম্পা জুয়েলার্সের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শোকেসে রাখা স্বর্ণালংকার নেন। চুরি শেষে ভবনের নিচে মোটরসাইকেলে অপেক্ষমাণ ব্যক্তির সঙ্গে তারা দ্রুত চলে যান। চোরচক্রটি স্বর্ণালংকার কয়েক ভাগে ভাগ করে নেয়। কিন্তু ডিবির তৎপরতায় সেগুলো বিক্রি করার সুযোগ পায়নি। ১৬ অক্টোবর দুপুরে শাহিনকে চট্রগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার ফরিদপুরের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ১২১ দশমিক সাত ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পলাতক আসামি শৈশব রয় ও তার স্ত্রী অনিতার বরিশালের বাসা থেকে ১৭ অক্টোবর ৫২ দশমিক ৮১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন নুরুল ইসলামের নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে ২ ভরি স্বর্ণ, একটি মোটরসাইকেল ও ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
১৭ অক্টোবর এ মামলায় শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৬) দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।