ফরিদপুরে সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতের রুল ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) চিঠি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।।
আখতার আহমেদ বলেন, যেহেতু রিটের ব্যাপারটা আছে— অতএব, কমিশন রিট এবং ডিসি সাহেবের যে সুপারিশ, এগুলো বিবেচনায় নিয়ে যেটা আইনগতভাবে প্রযোজ্য, সেটাই ব্যবস্থা নেবে। এটা হচ্ছে সচিব হিসেবে আমার কথা। তবে কমিশন এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এর আগে ফরিদপুর-২ এবং ফরিদপুর-৪ এর সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ওই তালিকায় ফরিদপুর-৪ এর অন্তর্গত ২টি ইউনিয়ন, আলগী ও হামিরদী
জাতীয় সংসদীয় আসন ফরিদপুর-২ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নসহ ভাঙ্গা উপজেলার সাধারণ জনগণ ওই আসন বিন্যাস বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এতে করে ক্রমান্বয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।
সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, ভাঙ্গা থানা, হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয় ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হবার কারণে সাধারণ জনগণকে তীব্র ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবির সমর্থনে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা না হলে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
এই অবস্থায় জাতীয় সংসদীয় আসন ২১২ ফরিদপুর- ২ (নগরকান্দা ও সালথা) এর অন্তর্গত ভাঙ্গা উপজেলার ২টি ইউনিয়ন আলগী ও হামিরদীকে জাতীয় সংসদীয় আসন ২১৪ ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) এর মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে তিনি অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।
এদিকে ইসির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই প্রজ্ঞাপন (সীমানা পুনর্নির্ধারণের) কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
রুলের জবাব দিতে সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব।
উল্লেখ্য, আসন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, আইন অনুযায়ী আন্দোলন করে বা দেশের কোনও আদালতে গিয়ে কোনও লাভ হবে না।