আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা, দুই দেশের সেনাবাহিনী কতটা শক্তিশালী?

আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা, দুই দেশের সেনাবাহিনী কতটা শক্তিশালী?

আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া মহাদেশের দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান প্রশাসন। হামলায় ৯ শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন। অবশ্য ইসলামাবাদ এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের সামরিক সক্ষমতা তুলনা করে দেখা যাক।

সামগ্রিক চিত্র

পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। সেখানে জনবল, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও আধুনিকায়নে স্পষ্ট অগ্রগতি রয়েছে। চীন এর প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে নিয়মিত অস্ত্র-সাহায্য ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে।

তালেবান-নিয়ন্ত্রিত আফগান বাহিনীর সক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমছে। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় বিদেশি সেনাদের ফেলে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম তারা পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর অনেকটাই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকায় আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াও চরমভাবে বাধাগ্রস্ত।

জনবল

পাকিস্তানের মোট সক্রিয় সেনা রয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার জন। এরমধ্যে সেনা সদস্য ৫ লাখ ৬০ হাজার জন। বিমান বাহিনীর সদস্য ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীর সদস্য রয়েছে ৩০ হাজার জন।

এদিকে আফগানিস্তানের সক্রিয় সেনা সদস্য ১ লাখ ৭২ হাজার জন। তালেবান প্রশাসন সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। সামগ্রিকভাবে জনবল ও সংগঠনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে।

সাঁজোয়া যান ও কামান

পাকিস্তানের সাঁজোয়া যান রয়েছে ৬ হাজারের বেশি। কামান বা আর্টিলারি রয়েছে ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি।

আফগানিস্তানের সাঁজোয়া যানের মধ্যে রয়েছে সোভিয়েত যুগের ট্যাংক, সাঁজোয়া কর্মী বাহকসহ বিভিন্ন ধরনের যান। এর মধ্যে কতগুলো কার্যকর আছে—তার সঠিক সংখ্যা অজানা। আর্টিলারিও কমপক্ষে তিন ধরনের রয়েছে, কিন্তু মোট সংখ্যা অনির্দিষ্ট।

বিমান শক্তি

পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান রয়েছে ৪৬৫টি। এছাড়া আক্রমণ, পরিবহন ও বহুমুখী ব্যবহারের জন্য হেলিকপ্টার রয়েছে ২৬০-এর বেশি। আর আফগানিস্তানের কোনও যুদ্ধবিমান নেই। বিমান রয়েছে কমপক্ষে ৬টি। এর কয়েকটা আবার সোভিয়েত যুগের পুরোনো মডেল। হেলিকপ্টার রয়েছে ২৩টি। তবে কতগুলো সচল তা জানা যায়নি।

পারমাণবিক সক্ষমতা

পাকিস্তানের ১৭০টি ওয়ারহেড পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আফগানিস্তানের কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নেই।

দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লেও বাস্তব শক্তির তুলনায় পাকিস্তানের সামরিক সুবিধা স্পষ্ট ও গভীর।

সূত্র: বিবিসি

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin