লজিস্টিক নীতিমালা নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে একটা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি কাজ করার উপযোগী ছিল না। সেখানে ২-৩ পাতা শেখ মুজিবের বন্দনা ছিল।’
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ দিন লজিস্টিকস নীতি-২০২৫ নতুন করে অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। গত বছরের এপ্রিলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়ে একটি নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগের নীতিমালা বাতিল করে নতুন নীতি প্রণয়ন করেছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘এটা কোনও আইন না, তবে একটা নীতিমালা থাকলে সরকার তার কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারে, দিক নির্দেশনা পায়। আজ পাস হওয়া নীতিমালার ফলে বাংলাদেশে লজিস্টিক ইস্যুগুলো খুব দ্রুত নির্ণয় করা যাবে। ফলে দেশের পাবলিক এবং প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়বে, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে, বাংলাদেশের রফতানির যে অবস্থা প্রতিযোগিতামূলক অন্যান্য দেশের তুলনায় সেটি আরও ভালো হবে। এখন দেখা যাচ্ছে পণ্য অনেক ক্ষেত্রে ১১ দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকতো। এই নীতিমালা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণ এবং সহজলভ্যতা খুব দ্রুত হবে। আমরা রফতানিও খুব দ্রুত করতে পারবো। ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলো আরও আগ্রহী হবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে এরকম একটা নীতি করা হয়েছিল। কিন্তু সেটাকে সচিব কমিটি পুনর্মুল্যায়ন করে দেখেছে যে, এটা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। যেটা হয়েছে নীতির দুই-তিন পৃষ্ঠাজুড়ে শেখ মুজিবের বন্দনা ছিল। এই নীতির মুল ফোকাস হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের লজিস্টিকাল যে ইস্যুগুলো তার ফোকাস থাকবে রেল ও নৌ পরিবহনের ওপরে। আমাদের ৩ হাজার কিলোমিটার নৌ ও রেলপথ আছে। কিন্তু এটার পরিপূর্ণ ব্যবহার আমরা করতে পারিনি। সাত মাস নদীগুলো চলাচলের উপযুক্ত থাকলেও আমরা তা কাজে লাগাতে পারি না। এখানে সরকারি বেসরকারি দুই খাত থেকেই বিনিয়োগের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় ১১টি অধ্যায় আছে এবং এর পুরোটা একটা পরিবেশবান্ধব লজিস্টিক নিশ্চিত করা হচ্ছে।’