রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে থাকা একটি বিদ্যালয়ের ভবন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনতলা ভবনের উপরের অংশ আগুনে পুড়ে চারপাশের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এজন্য ওই অংশটুকু ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
জানা গেছে, কড়াইল বস্তির তালতলায় ওয়াসা পাম্প সংলগ্ন স্থানে “মায়ের দোয়া বিদ্যানিকেতন ও হাই স্কুল নামে” বিদ্যালয়টি বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠে বেশ কয়েক বছর আগে। এখানে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত চলে পাঠদান। এ্ই বিদ্যালয়ে বস্তির বাসিন্দাদের সন্তানরা লেখাপড়া করেন। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সেখানে পাঠদান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যালয়টি তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর একমাত্র সম্বল। তবে আগুনে স্কুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুদের ভবিষ্যত পড়েছে হুমকির মুখে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলটির চারপাশে চলাচলের সরু রাস্তা আটকে স্থানীয় কয়েকজন তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটির উপরের তলা ভাঙছেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকবে সব কার্যক্রম। পরীক্ষাও পেছানো হবে। তবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”
তিনি বলেন, “আগুনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বইখাতাও পুড়ে গেছে বা নষ্ট হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এর আগে, মঙ্গলবার বৌবাজারের একটি ঘর থেকে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিশাল এই বস্তির সহস্রাধিক ঘরে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও সরু পথ ও পানির সংকটে আগুন নেভাতে ব্যাপক বাধার মুখে পড়ে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ফায়ার সার্ভিস আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করে আজ সকাল সাড়ে ৯টায়।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে প্রায় দেড় হাজার ঘর পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।