রাতভর টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তার সঙ্গে যুক্ত আছে যানজট। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। মিরপুর, উত্তরা, বিজয় সরণি, ধানমন্ডি ২৭, শান্তিনগর, মালিবাগ, কাকরাইল, রামপুরা, পুরান ঢাকার অলিগলিসহ নগরীর প্রায় প্রতিটি গলি এখন পানিতে ডুবে আছে। কোনও কোনও এলাকার বড় রাস্তায়ও ডুবে গেছে বৃষ্টির পানিতে।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় এই বৃষ্টি।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রবিবার রাত থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি ঘণীভূত হতে পারে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বৃষ্টি আরও ঘণ্টাখানেক চলতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় বৃষ্টি কমে এসেছে। দুপুরের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু এখনও বাংলাদেশের ওপর সক্রিয়। তাই এই সময় বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তবে চলতি সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি আর নাও হতে পারে।’