প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটার ছিল। সেখানে কি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি? ৮০ শতাংশ লোক ভোট দিতে গিয়েছে। এরচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ডাকসুর ইতিহাসে আরেকটা হয়েছে? তো বাংলাদেশের মানুষ তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, খুব ভালো ইলেকশন হবে। আর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ৩০-৪০ শতাংশ ভোট কোথা থেকে পেলেন আমি জানি না। আপনি নিজে কোনও সার্ভে করিয়েছেন? এরা খুনির একটা দল, খুনি একটা পার্টির ১০ শতাংশ ভোট থাকলে কী আর ১ শতাংশ থাকলে কী। তারা হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে, হাজার মানুষকে খুন করেছে। আওয়ামী লীগের আমল দেখেন নাই?’
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী করতে পারে সেটা আমরা গত জুলাইয়ে দেখেছি, গত ১৫ বছর দেখেছি। তারা খুন করতে পারে, গুম করতে পারে, লাখ লাখ মিথ্যা মামলা দিতে পারে। হেন কোনও অপকর্ম নাই, তারা করতে পারে না। এখন দেখেন তার কোনও বন্ধু নাই, তারা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, রাস্তার ছ্যাঁচড়াদের মতো তাদের অবস্থা।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা কারও কাছ থেকে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে শঙ্কা দেখিয়েছেন এমন কিছু পাইনি। আগের যা বিষয় ছিল সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি, গুম কমিশন করা হয়েছে, নতুন আইন করা হয়েছে, আইনি অনেক পরিবর্তন এসেছে। বড় একটা আইন ছিল সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট, যেটা দিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করা ছিল, সেটাকে আমরা বাদ দিয়েছি। পরিবর্তন তো হয়েছে, গত ১৪ মাসে যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে সেগুলো প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে আসবে।’
প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী পাঁচ রাজনীতিবিদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্ক কনস্যুলেট বিষয়টি পুলিশ বিভাগকে জানিয়েছে। তারা এটি নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া আমরা একটি পরিষ্কার বিবৃতি দিয়েছি এই প্রসঙ্গে, সেখানেই সব উল্লেখ করা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ১৫ বছরে কী করেছে সবাই দেখেছে। যারা একটা ছোট শিশুকে পর্যন্ত ছাড়ে নাই, খুন করেছে, তারা কী করতে পারে সেটা তো আমরা দেখেছি।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো পুরো বিশ্ববাসীকে জানানো যে, বাংলাদেশের জন্য একটা ফাউন্ডেশন ইলেকশন আমরা ফেব্রুয়ারিতে করতে যাচ্ছি। কে জানি বলছিল, ফেব্রুয়ারিতে ইলেকশন হতে পারে। হতে পারে না, হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। ১৫ বছর যে অপকর্ম করা হয়েছে, সেগুলো থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য কী কাজ এই সরকার করছে, সেই কাজগুলো সবাইকে জানানো যে কী ধরনের সংস্কার এই সরকার করেছে, কী রকম অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হয়েছে, একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে আগের জায়গায় নিয়ে আসার জন্য এই সরকার কী কী কাজ করেছে সেই বার্তা দেওয়া। মূল বার্তা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করতে চাচ্ছি। ফ্রি, ফেয়ার, গ্রহণযোগ্য এবং একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।’