ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ঠেকাতে আবারও তাদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর চিন্তাভাবনা করছে পশ্চিমারা। তবে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সামনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করলেন, পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনও আকাঙ্ক্ষা তেহরানের নেই।
তিনি বলেন, আমি এই সমাবেশে আবারও স্পষ্ট করে বলছি, ইরান কোনও দিন পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না।
ইরানের ওপর এখন বহাল নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে গত ২৮ আগস্ট এক বৈঠকে, তেহরানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও একদফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। সে দিনই তারা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে ৩০ দিনের প্রক্রিয়া শুরু করে।
২০১৫ সালে পরমাণু শক্তিধর পাঁচ রাষ্ট্র ও জার্মানির সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের রাশ টেনে ধরা সংক্রান্ত এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান। তবে তেহরানের ওপর ওই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আগের মেয়াদের প্রেসিডেন্সিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কথিত ই-থ্রি (ইউরোপের তিন বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্র) যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হয়েই তারা ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাঁয়তারা করছে।
তবে, সব দেশ আবার ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনই চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। অনেক ইউরোপীয় নেতাই প্রস্তাব করেছেন, ইরান যদি জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার দেয়, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে পশ্চিমাদের মাথাব্যাথায় অন্তত কর্ণপাত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তবে সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে মাস ছয়েক সময় দেওয়া যেতে পারে। এতে কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার ফুরসৎ পাবে তারা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স