দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোর (পিএসপি) মধ্যে আন্তঃলেনদেন (ইন্টারঅপারেবল) ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এমএফএস প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায়নি, ফলে তারা এই সেবার বাইরে রয়ে গেছে। অন্যদিকে বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ তিন মাস সময় চেয়ে আপাতত যুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারঅপারেবল লেনদেন চালুর জন্য কারিগরি প্রস্তুতি ও চার্জ নির্ধারণে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বিকাশ ও নগদসহ সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে ১ নভেম্বর থেকে সেবা চালুর ঘোষণা দেয়।
তবে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নগদকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি, যদিও তারা শুরু থেকেই এই উদ্যোগে যুক্ত ছিল। এদিকে বিকাশ গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়, তাদের সিস্টেম এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে নিরাপদ নয়, তাই ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিকাশ জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। তাই তারা তিন মাস সময় চেয়েছে। নগদের অনুমোদনের বিষয়টি পরে জানানো হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, তবে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতায় নগদ বাদ পড়ায় ১০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে সেবা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রকেট, ইসলামী ব্যাংকের এম ক্যাশ, দুটি পিএসপি এবং ৭টি ব্যাংক। আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে বড় দুই এমএফএস প্রতিষ্ঠান—বিকাশ ও নগদ—এই সেবার বাইরে থাকায় আন্তঃলেনদেনের পূর্ণ সুফল এখনই ভোক্তারা পাচ্ছেন না।