আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিচার প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অস্বচ্ছ বলে উল্লেখ করে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১০২ জন সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, এ ধরনের বিচার প্রক্রিয়া দেশে আইনের শাসনকে ব্যাহত করবে।
এতে সাংবাদিকরা জানান, আইসিটি আদালত ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে—বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য, বিচার কাজে অসংগতি, অস্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়ে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটির রায়কে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আদালতের ওপর অস্বাভাবিক চাপ, একতরফা তথ্য উপস্থাপন, অভিযুক্তদের নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগে বাধা এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিপক্ষের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আইনজীবীকে শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ওপর মব সন্ত্রাসের অভিযোগও সাংবাদিকদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার হতে হলে তা অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও চাপমুক্ত পরিবেশে হতে হবে। আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার করতে হবে—যা এই মামলায় অনুপস্থিত ছিল। তারা বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব সত্য প্রকাশ করা এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো। তাদের মতে, ফরমায়েশি, সাজানো বা প্রভাবিত রায় এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ বিচার রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে।
বিবৃতিতে সাংবাদিকরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন
১। আলোচিত রায় বাতিল করে বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা।
২। আদালতকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপমুক্ত রাখা।
৩। সব পক্ষকে নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে বক্তব্য–প্রমাণ উপস্থাপনের সমান সুযোগ দেওয়া।
৪। যে কোনও রায় সত্য, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।
বিবৃতির শেষে সাংবাদিকরা বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং আইনের শাসন রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ। ন্যায়বিচারই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখে—এর ব্যত্যয় হলে দেশ ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হবে।