আসিয়ানের ১১তম সদস্য হলো পূর্ব তিমুর

আসিয়ানের ১১তম সদস্য হলো পূর্ব তিমুর

দক্ষিণ–পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট, আসিয়ানের ১১তম সদস্যদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এশিয়ার সবচেয়ে নতুন দেশ হিসেবে পরিচিত পূর্ব তিমুর। রবিবার (২৬ অক্টোবর) আসিয়ান সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ দেওয়া হয়। অর্ধশতাব্দী আগে থেকেই পূর্ব তিমুরকে আসিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার স্বপ্ন দেখে আসছিলেন দেশটির অধিবাসীরা।

তিমুর–লেস্তে নামে পরিচিত এই দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এটি এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশটির আশা, আসিয়ানের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তার ক্ষুদ্র অর্থনীতি উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

১৪ বছর অপেক্ষার পর পূর্ব তিমুর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়েছে। যদিও এ সদস্যপদ দেশটির জন্য বিশাল কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। তবে এ স্বীকৃতিকে দেশটির স্বাধীনতাসংগ্রামের নায়ক প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা এবং প্রধানমন্ত্রী জানানা গুসমাওর জন্য প্রতীকী জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পর্তুগিজ শাসনের সময় দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হর্তা এই লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলো। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক প্রেসিডেন্ট রামোস-হর্তা।

শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনে পূর্ব তিমুরের পতাকা মঞ্চে রাখা হলে আসিয়ান নেতারা করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান, যা পুরো অনুষ্ঠানটিকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

পরে এক আবেগঘন ভাষণে গুসমাও বলেন, এটি তার দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং নতুন শুরু যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ‘বিশাল সুযোগ’ নিয়ে আসবে।

তিনি বলেন,‘তিমুর-লেস্তের মানুষের জন্য এটি শুধু একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন নয়। এটি আমাদের যাত্রার একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি।’

পূর্ব তিমুর তিন শতাব্দী ধরে পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল। ১৯৭৫ সালে পর্তুগিজরা হঠাৎ তাদের উপনিবেশ ছেড়ে চলে যায়। এতে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার জন্য এর দখল নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং সে সময় অনেক রক্তপাতও ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালে পূর্ব তিমুর স্বাধীনতা লাভ করে।

৭৫ বছর বয়সি রামোস-হোর্তা ১৯৭০-এর দশকে পূর্ব তিমুরের আসিয়ান সদস্যপদ পাওয়ার ধারণা তুলে ধরেছিলেন। আঞ্চলিক সংহতির মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার চেষ্টায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান হোর্তা।

সেপ্টেম্বরে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রামোস-হর্তা বলেন, পূর্ব তিমুরকেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। আমরাও সীমান্ত ও দক্ষিণ চীন সাগরসহ সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে অবদান রাখতে পারি।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin