আত্মসাৎ করা ৭৮ টন টিসিবির চাল উদ্ধার

আত্মসাৎ করা ৭৮ টন টিসিবির চাল উদ্ধার

মাগুরায় টিসিবির প্রায় ৭৮ টন চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর বাজার থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ করা ৭৭.৮৩৫ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এ চাল উদ্ধার করেন।

কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, সদস্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মজনুর রহমান এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে বিনোদপুর বাজারের তিনটি গুদাম থেকে এই চাল জব্দ করা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মজনুর রহমান বলেন, ‘গত জুলাই মাসে ওএমএস ডিলার হোসনিয়া কান্তা ঋতুকে ৭৭.৮৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই চাল টিসিবির ডিলারদের কাছে সরবরাহ করেননি।

‘তদন্ত কমিটির কাছে তিনি স্বীকার করেছেন যে, চালগুলো বিনোদপুর বাজারের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও বরাবর জমা দেওয়ার পর, তার নির্দেশে ওই রাতেই তিনটি গুদামে অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করা হয়। জব্দ চাল বর্তমানে মহম্মদপুর ও বিনোদপুরের সরকারি গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে। ইতোমধ্যে ওএমএস ডিলার হোসনিয়া কান্তা ঋতুর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে চাল পরীক্ষা করে নির্দেশনা দেবেন।’

তবে এ ঘটনায় দায়ী ডিলার হোসনেয়ারা কান্তা ঋতুর বিরুদ্ধে শুধু ডিলারশিপ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেফতার কিম্বা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। তিন মাস ধরে টিসিবির চাল গোপনে মজুত করে রাখার মতো স্পষ্ট অপরাধের পরও কেন শুধুই মাল ফেরতই যথেষ্ট ধরা হলো– বিষয়টি নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘এর পেছনে হয়তো আরও প্রভাবশালী “রাঘব বোয়ালদের” যোগসাজশ রয়েছে। এখন প্রশাসনের প্রতি সর্বসাধারণের দাবি উঠেছে, এই সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin