বাগেরহাট ডিসি কার্যালয়ের সাবেক উমেদারসহ চার জনের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকার মামলা

বাগেরহাট ডিসি কার্যালয়ের সাবেক উমেদারসহ চার জনের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকার মামলা

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সাবেক এমএলএসএস (উমেদার) আবদুল মান্নান তালুকদারসহ চার জনের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলাটি করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট; যারা প্রাথমিক অনুসন্ধানে মানিলন্ডারিংয়ের পর্যাপ্ত প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্য চার অভিযুক্ত হলেন— মো. আনিসুর রহমান (৬২), সালেহা বেগম, জেসমিন নাহার (মান্নানের স্ত্রী) ও আনোয়ারা বেগম।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এমএলএসএস পদে চাকরি করেন আবদুল মান্নান তালুকদার। অবসর গ্রহণের পর তিনি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ স্লোগানে ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন; যা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়।

প্রতিষ্ঠানটি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও জমি কেনাবেচার নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতো। প্রচারণায় বলা হতো— মাত্র ৫ হাজার টাকা থেকে যেকোনও অঙ্কের বিনিয়োগ করলে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

এইভাবে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।

সিআইডির তদন্তে আরও জানা গেছে, সংগৃহীত টাকার মধ্যে ৬৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ মান্নানের মালিকানাধীন সাবিল গ্রুপের সহযোগী ছয়টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, এ্যাজাক্স জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা), সাবিল ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (বাগেরহাট), সাবিল জেনারেল হাসপাতাল (পিরোজপুর), সাবিল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (বাগেরহাট), সাবিল ল প্লাজা ও সাবিল মৎস্য প্রকল্প (বাগেরহাট)।

বাকি অর্থ বিভিন্ন নামে-বেনামে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি ছাড়াই উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করেছে। সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে মানিলন্ডারিং করা হয়।

তিনি আরও জানান, মামলার তদন্তে অর্থের প্রকৃত প্রবাহ, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। সংস্থাটি বলেছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস শনাক্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান চলমান।

সিআইডি জানায়, সাবেক নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারী থেকে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী উমেদার মান্নানের এই রূপান্তর এখন সিআইডির নজরদারিতে। অভিযোগ রয়েছে হাজারো বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি ও তার পরিবার এখন সাবিল গ্রুপের মালিক, আর ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না তাদের কষ্টার্জিত টাকার কোনও হদিস।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin