বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ২৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ৩৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আড়াই মাসে মোট ১৭৫ কোটি ডলার কেনা হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে ডলারের জোগান চাহিদার তুলনায় বেশি। ডলারের দর যাতে অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। কারণ দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অতীতের বিপরীতে নতুন ধারা
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া ডলার সংকট মোকাবিলায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রিজার্ভ থেকে বিপুল ডলার ছাড়লেও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। ফলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহও জোরদার হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত তিন অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছাড়া হয়। অথচ এই সময়ে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই প্রবণতা বদলে যাচ্ছে- রিজার্ভ আবার বাড়ছে।
বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে সীমা
আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করে। তার আগে চালু ছিল ক্রলিং পেগ পদ্ধতি। বর্তমানে ডলারের দর ১২৩ টাকার ওপরে উঠলে বা ১২১ টাকার নিচে নামলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা
ডলার কেনার পাশাপাশি বিদেশি সহায়তার ঋণও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, রবিবার পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম-৬) অনুযায়ী এই অঙ্ক প্রায় ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে বাজারে জোগান বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ডলার কিনে দর নিয়ন্ত্রণে রাখছে, যাতে একদিকে রিজার্ভ বাড়ে, অন্যদিকে প্রবাসী আয় ও রপ্তানিকারকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকে।