রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এটলাস ইভি’ নামে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বাজারজাত শুরু করেছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) টঙ্গীর এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় নতুন এই মোটরসাইকেলটির বাজারজাত কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বাজারজাত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এ সময় শিল্প উপদেষ্টা জানান, সরকার পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবস্থার প্রসারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, “এটলাস বাংলাদেশের উদ্যোগ ইলেকট্রিক ভেহিকেল সংক্রান্ত জাতীয় নীতি বাস্তবায়নের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কার্বন নিঃসরণ কমাবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে, এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্প ব্যয়ে টেকসই পরিবহন পৌঁছে দেবে।”
এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চলতি বছরের মে মাসে চীনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং লুয়ান ইলেকট্রিক ভেহিকেল কোং লিমিটেড-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এবিএল এবার নিজস্ব ব্র্যান্ডে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল আনা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, “এটলাস ইভি আসায় ক্রেতারা এখন গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য ও নির্ভরযোগ্য বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। এই উদ্যোগ দেশীয় উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।”
বিএসইসি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আলম বলেন, “বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব যানবাহনের চাহিদা বাড়ছে। এবিএল-এর এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
এবিএল বলেছে, প্রথম ধাপে চারটি মডেল (ঝ-১০০, ঝ-৯০, ঝ-৮০ ও ঝ-৭০) বাজারে এসেছে। প্রতিটি মডেলে লিকুইড-কুলিং মোটর রয়েছে, যা যানজটপূর্ণ পরিবেশেও মোটরের কার্যকারিতা বজায় রাখবে। গ্রাফিন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একবার পূর্ণ চার্জে বিদ্যুৎ খরচ হবে মাত্র প্রায় ১৫ টাকা, যা দিয়ে ঝ-১০০ মডেলে ১০০-১২০ কিলোমিটার চলা যাবে। প্রতিটি বাইকে এনএফসি অ্যান্টি-থেফট সিস্টেম যুক্ত, যা চুরি প্রতিরোধে সহায়ক। রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা থাকায় বর্ষাতেও চালানো নিরাপদ।