চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় না হওয়ায় আগে-ভাগেই বাজেটের ওপর কাঁচি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্যসচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, পরিকল্পনাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা হচ্ছে। আর মূল্যস্ফীতির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হচ্ছে ৬ শতাংশ। অক্টোবর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গড় মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশের ওপরেই থাকছে। সেখান থেকে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায় সরকার। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দেশে প্রথমবারের মতো চলতি বাজেটের আকার কমিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। কিন্তু প্রথম প্রান্তিকের পরেই বাজেটের আকার ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। বাজেটের আকার আরও বেশি কমানোর কথা আলোচনা হয়। যেহেতু আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসবে। তাদের নানা ধরনের পরিকল্পনা থাকবে, এ জন্য বাজেটের আকারে বড় পরিবর্তন আনছে না অন্তর্বর্তী সরকার।
জানা গেছে, সামষ্টিক অর্থনীতির এসব অবস্থা বিবেচনায় রেখে চলতি অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাস্তবভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল অর্থনীতি খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক। প্রতি তিন মাস অন্তর দেশের অর্থনীতি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয় ওই বৈঠকে। পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে বাজেটের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
সূত্রমতে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জিডিপির হার বাড়ানো বা অর্জনকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বেশি হলেও এর সুফল সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছেনি। এখন প্রবৃদ্ধি বেশি বা কম সেদিকে নজর নয়, কীভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সে জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে এটি মেনে নিলেও কত দিন জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে কম প্রাধান্য দেওয়া হবে বা এভাবে চলবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিন প্রবৃদ্ধি অর্জনকে গুরুত্ব না দিলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। যা অর্থনীতিতে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে।