সমাজ বদলের লক্ষ্যে শোষণ-বৈষম্যবিরোধী বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ১৩তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিকেল তিনটায় চার দিনব্যাপী এই কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষকসহ ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে সিপিবির সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
আজ বৃহস্পতিবার সিপিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের শুরুতেই কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির সাংস্কৃতিক উপপরিষদ। জাতীয় পতাকা ও কাস্তে-হাতুড়িখচিত দলের লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কংগ্রেসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। উদ্বোধনী সমাবেশের পর সন্ধ্যা ছয়টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রথম দিনের সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে।
সিপিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক অধিবেশন চলবে। কংগ্রেসের শেষ অধিবেশনে আগামী ৪ বছরের জন্য সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি ও কন্ট্রোল কমিশন নির্বাচন করা হবে। কংগ্রেস চলাকালে প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টায় গণমাধ্যমকেন্দ্রে মুখপাত্ররা সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন। কংগ্রেস চলাকালে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিএমএ মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কংগ্রেসে গত চার বছরের কর্মকাণ্ডের ওপর ‘কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট’, দলের রণকৌশলগত দলিল বা কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘রাজনৈতিক প্রস্তাবের’ ওপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। কংগ্রেসে রণনীতিগত দলিল ‘ঘোষণা ও কর্মসূচি’ সমসাময়িকীকরণ ও গঠনতন্ত্রের সংশোধনী, অডিট কমিটির রিপোর্ট, কন্ট্রোল কমিশনের রিপোর্ট, ক্রেডেনশিয়াল কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন ও অনুমোদন হবে।
এবারের কংগ্রেসকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন সিপিবির নেতারা। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলছেন, এই কংগ্রেস থেকে ১৭ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সিপিবির আগামী দিনের সংগ্রাম, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপিবির রণনীতি-রণকৌশল নির্ধারণসহ ভবিষ্যতের লড়াই-সংগ্রামের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।