ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশে ইতালির বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি ইতালি-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছেন। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
প্রফেসর ইউনূস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’’
বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অভিবাসন চ্যালেঞ্জ, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন।
অভিবাসন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নিরাপদ অভিবাসন পথ নিশ্চিত করতে ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হতে ইতালির আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন, যা ভূমধ্যসাগরে শত শত অভিবাসীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে মানবপাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।’’
প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘‘মানবপাচার রোধে আমাদের আরও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর প্রসঙ্গে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পথে রয়েছে, এরপর তিনি তার আগের ভূমিকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে গত ১৪ মাস ধরে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইতালি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমর্থন করবে।
চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। প্রফেসর ইউনূস বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।