বিশ্বাস—আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বারবার এই শব্দই উচ্চারণ করলেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং পরামর্শক মুশতাক আহমেদ। তার কাছে এটাই মূল মন্ত্র। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা–মরার ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে সবচেয়ে বেশি জোর দিলেন এই একটি শব্দেই।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩২ বল হাতে রেখেছে শ্রীলঙ্কার জয়টা নেট রানরেটে তাদের বিশাল ধাক্কা দিয়েছে। হংকংয়ের বিপক্ষে জয়েও সমালোচনা শুনতে হয়েছে, কারণ ১৪৪ রান তাড়া করতে ১৭.৪ ওভার লেগেছিল, যদিও তার আগেই ম্যাচে আধিপত্য তৈরি করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এখন এমন পরিস্থিতি যে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও নিজেদের ভাগ্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। কারণ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তাই এখন প্রথম কাজ হচ্ছে ম্যাচ জিতে নিজেদের টিকিয়ে রাখা। সেটা করতে বিশ্বাসের বিকল্প দেখেন না মুশতাক, ‘বিশ্বাস রাখতে হবে। কোচিং স্টাফ আর ম্যানেজমেন্ট বারবারই খেলোয়াড়দের বলে যাচ্ছে যে বিশ্বাস খুব জরুরি। হ্যাঁ, নানা হিসাব–নিকাশে নির্ভর করতে হচ্ছে, এটা কঠিন। কিন্তু প্রথমেই মনোযোগ দিতে হবে ম্যাচ জেতার দিকে।’
প্রশ্ন ছিল- সবচেয়ে বড় বিপদ কোথা থেকে আসতে পারে? মুশতাকের উত্তর ছিল স্পষ্ট—আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের অধিনায়ক রশিদ খান, ‘তাদের স্পিন বিভাগ দুর্দান্ত, বিশেষ করে মাঝের ওভারে। যদি আমরা ওদের স্পিন ভালোভাবে সামলাতে পারি এবং বোর্ডে সম্মানজনক স্কোর তুলতে পারি, তবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবো। কারণ আমাদের বোলিং ইউনিটও শক্তিশালী। আমার মূল চিন্তা মাঝের ওভারগুলো।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও মাঝের ওভারেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ার পর জাকের আলী ও শামীম হোসেন অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে জমা করেন ১৩৯ রান। এখন বিপদ সামলাতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকেই কৌশল হিসেবে নিতে বলছেন কোচরা। মুশতাক বলেছেন, ‘আমরা সবসময় বলি ব্যাটসম্যানদের শট খেলে যেতে হবে। এটা একদিনে শেখা যায় না, ধীরে ধীরে তৈরি হয়। ছক্কা মারার ওপরও বিশেষভাবে কাজ করছি। শুরুতে ব্যর্থ হলে অনেক সময় দ্রুত ৪–৫ উইকেট পড়ে যায়। তখন আমরা ব্যাটসম্যানদের বলি—এমনটা ঘটতেই পারে। তবে ওটা ভুলে গিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতে পড়ে থাকলে উন্নতি থেমে যায়। আমাদের কাজ হলো তাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, ভেতরে ঢুকে যাওয়া থেকে বিরত রাখা, আর বিশ্বাস জোগানো।’
এ সময় নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন সাবেক পাকিস্তানি লেগস্পিনার, ‘আমি ইমরান খান, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে খেলেছি। ওদের কাছ থেকে একটা জিনিস শিখেছি—যদি নিজের ওপর বিশ্বাস না থাকে যে তুমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার যোগ্য, তবে প্রতিপক্ষকে অকারণ বেশি সম্মান করতে গিয়ে নিজের শক্তি ভুলে যাবে। আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হলেও খেলোয়াড় হিসেবে তুমি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’