ক্যারিবীয় দেশ জ্যামাইকায় বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মেলিসার আঘাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্যামাইকার জন্য এটি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা। মঙ্গলবার সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, ঝড়টি দ্বীপটিতে ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি জ্যামাইকায় আঘাত হানার আগেই সোমবার সন্ধ্যায় প্রবল বাতাস ও বর্ষণে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্যাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার এ ঝড়ে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দেশজুড়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সরকার বাধ্যতামূলকভাবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বিশেষজ্ঞ আন-ক্লেয়ার ফঁতান জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামাইকার জন্য এটি নিঃসন্দেহে শতাব্দীর ঝড়। সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।’
তিনি জানান, চার মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস এবং ৭০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালেই জামাইকার ভূমিতে আঘাত হানবে মেলিসা, এরপর পূর্ব কিউবা পেরিয়ে বুধবার বাহামা ও টার্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করবে।
অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ ক্যারিবীয় সাগরে ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার কারণে মেলিসা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানায় এনএইচসি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই ঝড়ে কয়েক দিনের ভয়াবহ বাতাস ও বৃষ্টিপাতের অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছে জ্যামাইকা।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6900cd5f8a25d" ) );
আন্তর্জাতিক রেডক্রস জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে অন্তত ১৫ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংস্থার আঞ্চলিক কর্মকর্তা নেসেফর মঘেন্দি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে ভিডিও বার্তায় বলেন, আজকের দিনটি জ্যামাইকার লাখো মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। ছাদ উড়ে যাবে, পানি বাড়বে, অনেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।
তিনি আরও জানান, দ্বীপজুড়ে ৮০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ত্রাণসামগ্রী, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি আগেই সরবরাহ করা হয়েছে।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস সোমবার দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বিশেষ করে ঐতিহাসিক বন্দর শহর পোর্ট রয়ালসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোনও অবকাঠামোই ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঝড় সহ্য করতে পারবে না।
হোলনেস জানান, ৩৩ মিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলসহ তার সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের হারিকেন বেরিলের চেয়েও এবার ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। অ্যাকিউওয়েদারের প্রধান আবহাওয়াবিদ জোনাথন পোর্টার বলেন, ধীরগতির ঘূর্ণিঝড় ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে, এটি এক ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে।
জ্যামাইকার ব্লু মাউন্টেন অঞ্চলের হ্যাগলি গ্যাপ এলাকার শিক্ষক ড্যামিয়ান অ্যান্ডারসন সোমবার বলেন, রাস্তাগুলো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা কোথাও যেতে পারছি না। ভয় লাগছে, এমন বহু দিনের ঝড় আমরা কখনও দেখিনি।
এদিকে পার্শ্ববর্তী হাইতি ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
ডব্লিউএমও কর্মকর্তা ফঁতান বলেন, মেলিসা এখন দক্ষিণ কিউবা ও বাহামার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস। বাহামার প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ডেভিস দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিউবা সরকারও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে।