বেইজিংয়ের সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক এআই কারিকুলামে যা থাকছে

বেইজিংয়ের সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক এআই কারিকুলামে যা থাকছে

চীনের রাজধানী বেইজিং দেশটির প্রথম প্রাদেশিক স্তরের অঞ্চল হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলোয় বাধ্যতামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা চালু করেছে। চলতি সেমিস্টারে বেইজিংয়ের এক হাজার চারশরও বেশি বিদ্যালয়ে এটি চালু হলো।

সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে এই উদ্যোগে কারিকুলাম, শেখানোর ধরন এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাইতিয়ান ডিস্ট্রিক্ট এক্সপেরিমেন্টাল প্রাইমারি স্কুল ও কুয়াংছুমেন মিডল স্কুল ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ এআই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে এআই-এর মূল ধারণা থেকে শুরু করে হাতে-কলমে প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাচ্ছে।

হাইতিয়ান এক্সপেরিমেন্টাল প্রাইমারি স্কুলে ১ম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্লাসের মাধ্যমে এআই শিখছে। ছোটরা সহজ ধারণা শিখছে। মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিখছে এআই মূলনীতি। বড়রা তৈরি করছে স্মার্ট হার্ডওয়্যার প্রজেক্ট।

স্কুলটির ইনফরমেশন সেন্টারের প্রধান শি ইউয়ান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বাস্তব জীবনের প্রকল্পের মাধ্যমে এআই বুঝতে ও ব্যবহার করতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

ক্লাসে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্লক-ভিত্তিক প্রোগ্রামিং প্ল্যাটফর্ম, আইফ্লাইটেক রোবট ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল। শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষার নির্দেশনা থেকে কার্যকর কোড তৈরি করতে সহায়তা করছে এসব পাঠ।পাঠের বাইরে রোবোটিক্স ক্লাব ও প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

১১ বছরের মিয়াও রুয়োয়ি ও ১২ বছরের ফাং সি তৃতীয় শ্রেণি থেকেই এআই ও প্রোগ্রামিং শিখছে। রুয়োয়ি জানাল, ‘প্রোগ্রামিং একটু কঠিন, কিন্তু রোবট বানানো দারুণ মজার!’

ফাং সি মনে করেন, এআই শেখা অন্য যেকোনও বিষয়ের চেয়ে অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক।কুয়াংছুমেন মিডল স্কুলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন এআই কারিকুলাম গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আইটি ক্লাসে তৃতীয় শ্রেণি থেকে এআই শেখানো হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরে সপ্তম শ্রেণিতে এআই-এর মূলনীতি, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে জেনারেটিভ এআই টুল দিয়ে স্মার্ট স্টাডি কম্প্যানিয়ন তৈরি শেখানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়, টেক কোম্পানি ও চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এ বছর চালু হয়েছে বিশেষ এআই ক্লাস, যেখানে গণিত, বিজ্ঞান, ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি শেখানো হচ্ছে। এ সব প্রশিক্ষণে হুয়াওয়ের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিও সহযোগিতা করছে।

বেইজিংয়ের একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানালো, স্কুলে নিয়মিত এআই বিজ্ঞান উৎসব, শিল্প সফর ও ড্রোন প্রযুক্তি বিষয়ক ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা ক্লাসের গতিবিধি বিশ্লেষণেও ব্যবহার করা হচ্ছে এআই দিয়ে। ইংরেজি ক্লাসে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম তৈরিতে।

তবে শিক্ষকরা জানালেন, তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সহায়ক হিসেবে এআই ব্যবহার করতে শেখাচ্ছেন, বিকল্প হিসেবে নয়। 

সূত্র: সিএমজি

Comments

0 total

Be the first to comment.

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি: ওপেনএআই’র বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার BanglaTribune | তথ্যপ্রযুক্তি

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি: ওপেনএআই’র বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখন আর শুধু অলাভজনক সংস্থা নয়—এবার তার...

Oct 29, 2025
মেসেজ থেকে কল—সব এক চশমায়! BanglaTribune | তথ্যপ্রযুক্তি

মেসেজ থেকে কল—সব এক চশমায়!

প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে স্মার্ট গ্লাস। মেটা সম্প্রতি উন্মোচন করেছে রে-ব্যান ডিসপ্লে। এতে চশ...

Sep 22, 2025

More from this User

View all posts by admin