প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘গত আট দশকে জাতিসংঘ বার বার দেখিয়েছে যে বহুপাক্ষিক কূটনীতি মানবজাতিকে আরও ভালোভাবে একসঙ্গে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে। তবুও, এর ৮০তম বার্ষিকীতে আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে বহুপাক্ষিক কূটনীতি আজ নানান চাপে রয়েছে।’
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘প্রায়শই অসম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন আবারও প্রমাণ করেছে যে, বহুপাক্ষিক কূটনীতি আমাদের শেষ এবং সর্বোত্তম ভরসা। তাই বহুপাক্ষিক কূটনীতির ধারক ও বাহক জাতিসংঘকে উজ্জীবিত রাখতে আমরা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও আন্তরিক আলোচনার আহ্বান জানাই।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সময়ের দাবি মেটাতে এবং বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমাদের যৌথ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে জাতিসংঘকে ক্রমাগত বিকশিত ও অভিযোজিত হতে হবে। এই মর্মে আমরা মহাসচিবের ইউএন ৮০ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে একইসঙ্গে জোর দিয়ে বলতে চাই যে, সংস্কারের নামে যেন বহুপাক্ষিকতাকে দুর্বল না করা হয় বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে অবহেলা না করা হয়। সংস্কারের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত মাঠপর্যায়ে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমার জনগণ প্রমাণ করেছে যে এ জগতে অন্যায়ের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। তারা প্রমাণ করেছে যে পরিবর্তন যেমন সম্ভব, তেমনি অপরিহার্য। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, সামনের দিনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসছে তা কোনও দেশের পক্ষে একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, বর্তমান পৃথিবীতে কোনও একটি দেশ সংকটে পড়লে, অথবা বিশ্বের কোনও এক প্রান্তে সংকট দেখা দিলে— সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তাই ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। আমাদেরকে তিন শূন্যের পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তরুণরা তিন শূন্য বাস্তবায়নের সৈনিক হয়ে বড় হবে। তাদের সামনে থাকবে শূন্য কার্বন, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভূতকরণ, এবং শূন্য বেকারত্ব— এর ভিত্তিতে তারা গড়ে তুলবে তাদের পৃথিবী।’