দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পাওয়া বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ ওই পরিবারের ৫ জন বিদেশ যেতে আদালতের অনুমতি চেয়েছেন। বাকিরা হলেন- আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা সোবহান, আরেক ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানভীর ও সাফওয়ান সোবহান।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলে সাফওয়ান সোবহান।
তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক খোরশেদ আলম শুনানি করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ফোরামের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন বিএনপিপন্থি আইনজীবী।
দুদকের পক্ষে আবেদনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৬ অক্টোবর তাদের বিদেশ গমনের বিষয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির সাপেক্ষে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাফওয়ানের আগে গত বছরের ডিসেম্বরে বিদেশ যেতে চাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আহমেদ আকবর সোবহান, তার স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা সোবহান ও আরেক ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানভীর। তাদের বিষয়েও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির সাপেক্ষে শুনানির জন্য ২৬ অক্টোবর ধার্য রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, তার ছেলে ও গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরসহ এ পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। যাদের নামে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয় তারা হলেন -আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহে আলম, তার স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীর ও তার স্ত্রী সাবরিনা সোবহান, আরেক ছেলে সাদাত সোবহান ও তার স্ত্রী সোনিয়া ফেরদৌস সোবহান এবং আরও দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানভীর ও সাফওয়ান সোবহান।
দুদকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আদালতকে জানানো হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তরসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সম্পৃক্ত ধারার অপরাধের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এজন্য অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুদক। তারা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানান দুদকের উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন। পরে আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
এর আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ– বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছিল।