এক মাসের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি বিদেশি ফলের দাম কিছুটা কমেছে। যদিও দাম এখনও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের পছন্দ এখন দেশি ফল। বর্তমানে বাজারে সর্বনিম্ন দামে মিলছে দেশি সিজনাল ফল।শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার কয়েকটি ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, এক মাস আগের ৫৫০ থেকে ৬০০ ডালিম এখন ৪৫০ টাকা, ৪০০ টাকার রেজিস্টার ফুজি ও গোল্ডেন আপেল ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, ৪২০ টাকার গালা আপেল ৩৫০ টাকা, ৩৫০ টাকার নাশপাতির দাম ৩০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে মাল্টার। ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মাল্টার দাম এখন ২৫০ টাকা।এছাড়াও আগের দামে বিক্রি হচ্ছে, আঙুর, কমলা ও ড্রাগন ফল। প্রতি কেজি চায়না আঙুর ৫০০ টাকা, মোনাকা ও লাল আঙুর ৩৫০, সাদা আঙুর ৪০০ টাকা। ন্যাচারাল ড্রাগন ২০০ টাকা, হাইব্রিড ১৫০ টাকা, বারোমাসি আম ২৫০ টাকা ও সাউথ আফ্রিকার কমলা ৩৫০ টাকা।পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ফল বিক্রি করেন বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিদেশি ফলের দাম এখন একেবারে কম না, আবার বেশিও না। এক মাস আগে নাশপাতি, মাল্টা, ডালিমের দাম অনেক বেশি ছিল। এখন সেটা কমেছে। তবে এখনও এটি সাধারণ মানুষদের কেনার মধ্য যায়নি।’ তিনি মনে করেন, ‘দুইশ থেকে আড়াইশ টাকার মধ্যে ফলের দাম হলে মানুষ কিনতে পারতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দু-একটা ফল ছাড়া এ দামে কোনও বিদেশি ফল পাওয়া যায় না।’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68eb28dfe03ee" ) ); স্বস্তি দেশি ফলেরাজধানীর কাঁচাবাজার, ফলের দোকান ও ফুটপাতের ভ্যানে দেশীয় ফল পাওয়া যায়। দোকান ও কাঁচা বাজারের চাইতে ফুটপাতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে কেনা যায়। বাজারে মৌসুমি ফলের প্রাচুর্যের কারণে দামে অনেকটাই স্বস্তি মিলছে। বৃষ্টির প্রভাবে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দেশি ফলের দাম এখন সবচেয়ে কম। সেজন্য ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে এখন দেশি ফল।সরেজমিন দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকার দেশি পেঁপে ও জাপানি পেঁপে এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ৮০ টাকার পেয়ারা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকার জাম্বুরার দাম এখন ৪০ থেকে ৮০ টাকা। আমড়া, তাল, আনারস, কামরাঙা, গাব ও চালতার আগের দামই আছে। আমড়া দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, তাল প্রতি পিস আকারভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকা, আনারসের দাম প্রতি পিস ৩০-৫০ টাকা, কামরাঙা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিলেতি গাব প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকা, চালতা ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। দাম কিছুটা বেড়েছে সাগর কলার। প্রতিহালির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।রাজধানীর কোর্ট এলাকায় ভ্যানে ফল বিক্রি করছেন শাহিন আলম। তিনি বলেন, ‘সিজনাল ফলের দাম এ সময়ে কমই থাকে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এসব ফলের চাহিদা কমেছে। সেজন্য দাম আরও কমেছে। একটু দাম কম দেখলেই ক্রেতারা ফল কেনেন। বাজারে দাম কিছুটা বেশি হলেই দাম জিজ্ঞেস করে অধিকাংশই চলে যান। দাম কমে থাকায় আমরা ভালো বিক্রি করতে পারছি।’রথখোলা মোড়ের কলা বিক্রেতা মোশাররফ বলেন, ‘সাগর কলার সিজন শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেজন্য দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।’শিক্ষার্থী রায়হান কাদেরী বলেন, ‘পেঁপে আগে ১০০ টাকার বেশি দাম থাকতো। এখন অর্ধেক দামেই কিনতে পারছি। একইভাবে পেয়ারাও। ৮০ থেকে ১০০ টাকার পেয়ারার দাম এখন ৬০ টাকা। এখনকার দাম ঠিক আছে।’বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ বলেন, ‘বিদেশি ফলের অনেক দাম। সিজনে সিজনাল ফলের দাম কম থাকে। সুযোগ বুঝে এসব ফল কিনতে জানলে অনেক কম দামে কেনা যায়।’