বিএনপির প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞতা ও নতুন মুখের সমন্বয়

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞতা ও নতুন মুখের সমন্বয়

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। অবশিষ্ট কিছু আসন জোটের শরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হতে পারে, আর কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা হবে পরে।

ঘোষিত তালিকার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৩৭ আসনের মধ্যে ৮৩টিতে সম্পূর্ণ নতুন মুখকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাদের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

এই নবাগতদের মধ্যে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রবাসী, প্রয়াত বিএনপি নেতাদের সন্তান ও তৃণমূল পর্যায়ের দীর্ঘদিনের সংগঠকেরা।

প্রার্থী তালিকায় অন্তত ১০ জন সাবেক সংসদ সদস্যের সন্তান এবং দুইজন সাবেক এমপির স্ত্রী রয়েছেন। তাদের মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে ধারাবাহিকতা রক্ষা, অন্যদিকে “সহানুভূতির” ভোটও বিএনপি কাজে লাগাতে চায় বলে মনে করছেন অনেকে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন, যা দলের সাংগঠনিক শক্তির প্রতি অঙ্গীকারের ইঙ্গিত।

প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবারই তিনি প্রথমবার ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বগুড়া-৬ আসন থেকে।

দলীয় সূত্র জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কর্মকাণ্ড, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিএনপির তরুণ ও পেশাজীবী প্রজন্মকে নেতৃত্বে নিয়ে আসার কৌশল।

অন্যদিকে, ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ১৫১ জনের আগে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের অনেকেই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অভিজ্ঞ এই প্রার্থীরা বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এবং দলের কাছে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত। তাদের মধ্যে অনেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তালিকায় থাকা উল্লেখ নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ; তারা সবাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যও আছেন মনোনয়ন তালিকায়। তাদের মধ্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আমান উল্লাহ আমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবেদীন ফারুক, জহির উদ্দিন স্বপন, লুৎফুজ্জামান বাবর, হাবিবুর রহমান হাবিব, খন্দকার আবদুল মুকতাদির, আবদুস সালাম পিন্টু, ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখযোগ্য।

দলের নীতি-নির্ধারকদের মতে, এই তালিকা অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও পেশাগত দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য আনার সচেতন প্রচেষ্টা। এটা এক ধরনের ‘পুরোনো ও নতুনের সংমিশ্রণ’। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, বিএনপির এই পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা, যেখানে পুরোনো নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রজন্মের উদ্যমকে একত্রে কাজে লাগানো হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন,

“এই মনোনয়ন তালিকার মাধ্যমে বিএনপি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে সমন্বিত করেছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা দলের নেতৃত্বে বৈচিত্র্য ও জনসম্পৃক্ততার প্রতিফলন ঘটায়।”

বিএনপির ঘোষিত তালিকায় উল্লেখযোগ্য নতুন প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান, ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সঞ্জিদা তুলি, সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক এবং ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।

মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর নাসিরের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—

এইচ এম মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ রুবেল (নীলফামারী-২), মকররম হোসেন সুজন (রংপুর-১ ), শামসুজ্জামান শামু (রংপুর-৩), মোহাম্মদ সোহেল হোসেন কায়কোবাদ (কুড়িগ্রাম-২), আনিসুজ্জামান খান বাবু (গাইবান্ধা-২), মোহাম্মদ ফারুক আলম সরকার (গাইবান্ধা-৪), মোহাম্মদ মসুদ রানা প্রধান (জয়পুরহাট-১), সাবেক সচিব আব্দুল বারী (জয়পুরহাট-২), মোহাম্মদ আবদুল গফুর সরকার (নীলফামারী-৪), মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), ফজলে হুদা বাবুল (নওগাঁ-৩), একরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬), মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন (রাজশাহী-১), ডিএমডি জিয়াউর রহমান (রাজশাহী-৪) এবং অধ্যাপক নজরুল ইসলাম (রাজশাহী-৫)।

 

নতুন প্রার্থীদের মধ্যে আরও আছেন ফারজানা শারমিন (নাটোর-১), এস এম আকবর আলী (সিরাজগঞ্জ-৪), আইনুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), মোহাম্মদ হাসান জাফর তুহিন (পাবনা-৩), মোহাম্মদ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (পাবনা-৫), রাগিব রউফ চৌধুরী (কুষ্টিয়া-২), মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (ঝিনাইদহ-৩), মোহাম্মদ সাবিরা সুলতানা (যশোর-২), মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬), আবদুর রউফ (সাতক্ষীরা-২), মো. মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪), নজরুল ইসলাম মোল্লা (বরগুনা-১), আহমেদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর-২), এএসএম ওবায়দুল হক নাসির (টাঙ্গাইল-৩), মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান মাতিন (টাঙ্গাইল-৪), রবিউল আওয়াল লাবলু (টাঙ্গাইল-৬), আহমেদ আজম খান (টাঙ্গাইল-৮), সৈয়দ ইমরান সালেহ (ময়মনসিংহ-১), মোতাহার হোসেন তালুকদার (ময়মনসিংহ-২), মো. আখতারুল আলম (ময়মনসিংহ-৬), লুৎফুল্লাহ মজেদ (ময়মনসিংহ-৮), ইয়াসের খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯), অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), শেখ মো. আবদুল্লাহ (মুন্সিগঞ্জ-১), তানভীর আহমেদ রবিন (ঢাকা-৪), মো. শফিকুল ইসলাম খান (ঢাকা-১৫), এম. মঞ্জুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), অধ্যাপক এস.এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর-৩), মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু (নারায়ণগঞ্জ-১), নজরুল ইসলাম আজাদ (নারায়ণগঞ্জ-২), মো. আজহারুল ইসলাম মান্নান (নারায়ণগঞ্জ-৩), মো. মাসুদুজ্জামান (নারায়ণগঞ্জ-৫), নায়াব ইউসুফ আহমেদ (ফরিদপুর-৩), শহিদুল ইসলাম বাবুল (ফরিদপুর-৪), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (গোপালগঞ্জ-১), ড. কে.এম. বাবর আলী (গোপালগঞ্জ-২), কামাল জামান মোল্লা (মাদারীপুর-১), সাঈদ আহমেদ আসলাম (শরীয়তপুর-১), মোহাম্মদ কয়েশার আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৩), কালিম উদ্দিন মিলন (সুনামগঞ্জ-৫), তাহসিনা রুশদি (সিলেট-২), মোহাম্মদ আবদুল মালিক (সিলেট-৩), ইমরান আহমেদ চৌধুরী (সিলেট-৬), সৌকত হোসেন সোকু (মৌলভীবাজার-২), আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন (হবিগঞ্জ-২), এস.এম. ফয়সল (হবিগঞ্জ-৪), এস.এ. হান্নান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১), মুশফিকুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), মো. আবদুল মান্নান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), আনিসুল হক (সুনামগঞ্জ-১), মো. জসিম উদ্দিন (কুমিল্লা-৫), মো. কামরুল হুদা (কুমিল্লা-১১), মো. ফখরুল ইসলাম (নোয়াখালী-৫), মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শামীম (নোয়াখালী-৬), আবদুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩), সারওয়ার আলমগীর (চট্টগ্রাম-২), কাজী সালাউদ্দিন (চট্টগ্রাম-৪), হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮), মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (চট্টগ্রাম-১৬)।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin