মহারাজা কৃষণ রাসগোত্রা, যিনি এম কে রাসগোত্রা নামেই বেশি পরিচিত। স্বাধীন ভারতের ফরেন সার্ভিসের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে তার কন্যা ইন্দিরা কিংবা দৌহিত্র রাজীব গান্ধী – সবার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন কৃষণ রাসগোত্রা। ১৯৮৫ সালে অবসর নিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে ।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একশ বছর পূর্ণ করেছেন এই বর্ষীয়ান কূটনীতিবিদ। তার শততম জন্মদিন উপলক্ষে গতবছর দিল্লিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর রাসগোত্রাকে বর্ণনা করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘লিজেন্ড’ ও ‘টাইটান’ হিসেবে।
এই কিংবদন্তিকে আগামী মাসে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিজয় দিবসের (১৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখা যাবে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের যে আমন্ত্রণলিপি পাঠিয়েছেন, তাতে লিখেছেন, “অনুষ্ঠানের শুরুতেই একজন বিশিষ্ট ভারতীয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে তার নিজের অমূল্য অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করবেন’।
এই বিশিষ্ট ভারতীয়র নাম তিনি প্রকাশ করেননি। তবে বাংলা ট্রিবিউন নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছে, এই ‘বিশিষ্ট ভারতীয়’ আর কেউ নন; তিনি ভারতের প্রবাদপ্রতিম কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম রূপকার এম কে রাসগোত্রা।
জানা গেছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি নিজে দক্ষিণ দিল্লিতে রাসগোত্রার বাসভবনে গিয়ে তাকে এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বয়সজনিত যাবতীয় শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করে তিনিও আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6926167b66645" ) );
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে রাসগোত্রা নিযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে, তখন তিনি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন উপদেষ্টা পি এন ধরের সঙ্গেও। পিএন ধর ও রাসগোত্রা দুজনেই ছিলেন কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিত। ১৯৭১ সালে দিল্লির নীতি নির্ধারণে তাদের দুজনেরই সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
ঢাকায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনার কাছে জেনারেল নিয়াজীর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের দিন দিল্লিতে ঠিক কী কী ঘটছিল, রাসগোত্রার স্মৃতিচারণায় সেই ইতিহাসই জীবন্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তব লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে: জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, ঢাকাতে এ বছরেও বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বিশেষ কারণে।
এ নিয়ে পরপর দু’বছর ঢাকায় বিজয় দিবসের প্যারেড বাতিল হলো। খোদ বাংলাদেশের রাজধানীতে যখন বিজয় দিবসের উদযাপনে ভাঁটার টান, দিল্লিতে সেই বাংলাদেশ সরকারই মহা ধূম ধামে বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, থাকছে এম কে রাসগোত্রার মতো লেজেন্ডকে আমন্ত্রণ জানানোর মতো বিশেষ চমক।
প্রসঙ্গত, দিল্লির যে রাধাকৃষ্ণন মার্গে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনটি অবস্থিত, সেটি ও তার আশেপাশে শহরের পুরো কূটনৈতিক এলাকাটির নাম চাণক্যপুরী। এই চাণক্যপুরীর নামকরণও করেন রাসগোত্রা
১৯৫১ সালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে এই এলাকার ‘চাণক্যপুরী’ নাম রাখার প্রস্তাব করেছিলেন এম কে রাসগোত্রা।
চতুর্থ শতাব্দীতে ভারতীয় কূটনীতির জনক ও মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তর পরামর্শদাতা কৌটিল্যর নামে এই নামকরণের প্রস্তাব লুফে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেহরুও। সেই ঘটনার প্রায় ৭৫ বছর বাদে চাণক্যপুরীর মাটিতেই এই কিংবদন্তিকে বিশেষ সম্মান জানাতে চলেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।