বরগুনায় বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক নারী গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ কর্মীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৫ নম্বর আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের পাকুরগাছিয়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বরগুনা থানা পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুতের বিল পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার সকালে পাকুরগাছিয়ায় যান বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পিসিএম (পিয়ন কাম মেসেঞ্জার) দাস শিব রতন (৫৫) নামের এক বিদ্যুৎ কর্মী। এ সময় গত মাসের বিদ্যুতের মিটারে ১০০ ইউনিটের বেশি বিল আসার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত হন সিমা আক্তার নামের ওই নারী গ্রাহক। এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ কর্মীকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং মারধরের হুমকি দিতে থাকেন।
খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিকলবদ্ধ অবস্থায় শিব রতনকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত সিমা আক্তারকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মুহাম্মদ আছফা উদ্দিন বলেন, দাস শিব রতন নামের আমাদের এক কর্মী বিল কাগজ বিলি করতে গেলে সেখানকার এক নারী গ্রাহক তাকে শিকল বন্দি করে রাখে। রতন আমাদের সঙ্গে একবার মোবাইল ফোনে বলেছেন, তাকে পাকুরগাছিয়ায় বন্দি করে রাখা হয়েছে, পরে ওই গ্রাহক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বন্ধ। তবে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার লোকেশন বের করি। সেখান থেকে আমারা তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে বরগুনা থানা পুলিশের সহায়তা নিই। পরে পুলিশ রতনকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ওই নারীকেও আটক করেন। মামলা করেছি। আদালত যে বিচার করবেন আমরা তা মেনে নেবো।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার ওসি ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিব রতন নামের এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীকে বন্দি করে রাখার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে সেখান থেকে শিকলে বাধা অবস্থায় তাকে আমরা উদ্ধার করি। সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সিমা আক্তারকেও আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সিমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।