বৈঠক করবেন ট্রাম্প-মামদানি

বৈঠক করবেন ট্রাম্প-মামদানি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। টানা কয়েক সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি বাক্যবাণ বিনিময়ের পর শুক্রবার (২১ নভেম্বর) হোয়াইট হাউজে সামনাসামনি হবেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কমিউনিস্ট মেয়র’ তার সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছেন এবং ওভাল অফিসে তা অনুষ্ঠিত হবে।

৩৪ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে নয় পয়েন্ট ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনের আগে নিউ ইয়র্কের বাইরে তুলনামূলকভাবে অচেনা হলেও এখন তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

মামদানি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে জননিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয়সামর্থ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। যে কোনও ইস্যু নিউ ইয়র্কবাসীর উপকারে এলে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করব। আর যদি কোনও অ্যাজেন্ডা নিউ ইয়র্কবাসীর ক্ষতি করে, তাহলে আমি সবার আগে তার বিরোধিতা করব।

মামদানির মুখপাত্র ডোরা পেকেচ জানান, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মেয়রের এই ধরনের বৈঠক স্বাভাবিক ঘটনা। তবে মামদানীর পূর্বসূরিরা—বিল দে ব্লাসিও ও এরিক অ্যাডামস—আলাদাভাবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হাই–প্রোফাইল ওভাল অফিস বৈঠকে অংশ নেননি। তারা অন্য মেয়র ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার মামদানি আরও বলেন, আমি জানি, লাখ লাখ নিউ ইয়র্কবাসীর কাছে এই বৈঠক দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রার্থীকে কেন্দ্র করে, যাদেরকে তারা একই কারণে ভোট দিয়েছেন—জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব আশা করেছেন।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াইয়ে প্রস্তুতি নিতে অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে দেশজুড়ে অভিবাসন দমননীতির মাঝেও নিউ ইয়র্ক ‘অভিবাসীদের শহর’ হিসেবেই থাকবে।

দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং নবাগত মেয়রের তিক্ততা জমতে থাকে জুনে, মামদানি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি জেতার পর থেকেই।

মামদানিকে তখন থেকেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির “কমিউনিস্ট” ভবিষ্যৎ বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প এবং তার জয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরটিতে বিলিয়ন ডলার ফেডারেল সহায়তা বন্ধের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন।

নির্বাচনের আগের কয়েক সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জন্ম নেওয়া ট্রাম্প প্রায়ই মামদানিকে একজন চরমপন্থি হিসেবে তুলে ধরেন, ‘যিনি জীবনে প্রায় কোনওদিন কাজ করেননি।‘

শেষ মুহূর্তেও সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোকে সমর্থন দেন। কুমো একজন ডেমোক্র্যাট সদস্য যিনি এবার স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করেছেন।

নির্বাচনে বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে একহাত দেখার সুযোগ ছাড়েননি মামদানি। তিনি বলেন, টেলিভিশনের আওয়াজটা একটু বাড়িয়ে নিন।ট্রাম্পও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘তো, শুরু হতে যাচ্ছে!’ (অ্যান্ড সো, ইট বিগিনস)।

Comments

0 total

Be the first to comment.

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা BanglaTribune | আন্তর্জাতিক

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা

নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কা...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin