বাংলাদেশ রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ব্রামা)-এর সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর বনানী থানায় মামলাটি দায়ের করেন সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্ব।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্রামার সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালে আসাদ সংগঠনের চাঁদা আদায় ও বিবিধ আদায় বই গোপন করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া তিনি একটি স্থগিত অডিট ফার্মের মাধ্যমে জাল অডিট রিপোর্ট তৈরি করে তা রেকর্ডে সংযোজন করেন।
ব্রামার অভিযোগ, আসাদের এসব কর্মকাণ্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি ও আর্থিক স্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনও জবাব দেননি। বরং প্রকাশ্যে সংগঠনকে ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছেন।
বনানী থানার ওসি (তদন্ত)মেহেদী হাসান বলেন, “অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
সংগঠনের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে গায়ের জোরে ব্রামার সভাপতির পদ দখল করেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান। অভিযোগ আছে, তিনি সংগঠনের ব্যানার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কুলিং গ্যাস আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ করতেন। এসব গ্যাসের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এয়ারকন্ডিশনার বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। অথচ এসব মৃত্যুর ভেতর দিয়েই আসাদ গড়ে তোলেন শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়।
ব্রামার সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে জাপান থেকে সংগঠনের ২২ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একটি প্রতিনিধি দল জাপানে সফরে যায়, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন সভাপতি আসাদুজ্জামান। অভিযোগ আছে, তিনি ওই দলে এমন দুজনকে যুক্ত করেন, যারা কখনও ব্রামার সদস্যই ছিলেন না। সফর শেষে ২০ জন সদস্য দেশে ফিরে এলেও ওই দুইজন আর ফেরেননি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।