ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে বল হাতে আবারও শেষ ওভারের নায়ক কাইল জেমিসন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ ওভারে স্নায়ু চাপ সামাল দিয়েছেন তিনি। তাতে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।
নেলসনে নিউজিল্যান্ডের ৯ উইকেটে করা ১৭৭ রানের জবাবে ১৬৮ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ মুহূর্তে জয়ের আশা জাগিয়েও রোমারিও শেফার্ড আউট হন শেষ ওভারের পঞ্চম বলে। তাতে ৪৯ রানে থামে তার লড়াই। এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।
প্রথম দুটি ম্যাচের মতো এবারও লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সামান্য ব্যবধানে হেরেছে ক্যারিবীয়রা। ১৩তম ওভারে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শেফার্ড ও শামার স্প্রিংগার মিলে শুরু করেন পাল্টা লড়াই। দুজন মিলে মাত্র ৬.৩ ওভারে যোগ করেন ৭৮ রান। ১৯তম ওভারে জ্যাকব ডাফির দুর্দান্ত ক্যাচ ও বোলিংয়ে ৩৯ রানে বিদায় নেন স্প্রিংগার। তার ২০ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২ রান। কিন্তু প্রথম চার বলে মাত্র দুই রান দেন জেমিসন। পঞ্চম বলে তার হাতেই ধরা পড়েন শেফার্ড। তার ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।
১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা মন্দ ছিল না। আলিক আথানাজের ৩১ ও আকিম অগাস্টের ২৪ রানে জবাব দিচ্ছিল তারা। এরপর মাত্র ৩৫ রানের ব্যবধানে ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে জ্যাকব ডাফি ৩৬ রানে নেন ৩ উইকেট। লেগ স্পিনার ইশ সোধি ৩৪ রানে নেন ৩টি। ম্যাচসেরাও তিনি। তিন উইকেট নিয়ে সোধি আবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছেন। তার মোট উইকেট এখন ১৫৬।
সোধির ওপরে আছেন শুধু আফগানিস্তানের রশিদ খান (১৮২) ও স্বদেশি টিম সাউদি (১৬৪)।
এর আগে অকল্যান্ডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের স্নায়ুক্ষয়ী শেষ ওভারে ১২ রান খরচ করলেও নিউজিল্যান্ডকে তিন রানের জয় এনে দিয়েছিলেন জেমিসন।
প্রথমে টস জিতে ব্যাট করেছে নিউজিল্যান্ড। শুরুতে দারুণ করেছিলেন ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও টিম রবিনসন। উদ্বোধনী জুটিতে ৫.৫ ওভারে আসে ৪৭ রান। রবিনসন পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ২৩ রানে আউট হলে ভাঙে জুটি। তবে ৩৪ বলে ৫৬ রান করেন কনওয়ে। তার আউটের পর পথ হারায় কিউইদের ইনিংস। কনওয়ের ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছয়।
এই সময় মিডল অর্ডারে সবচেয়ে কার্যকরী ব্যাটিংটা করেন ড্যারিল মিচেল। ২৪ বলে ঝড়ো ৪১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন ম্যাথু ফোর্ড ও জেসন হোল্ডার।