বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় সাজা ভোগ করা মুশফিক উদ্দীন টগকে (৫০) লালবাগ থানার অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) টগরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই মতিয়ার রহমান বুলবুল। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) টগরের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে টগরকে গ্রেফতারের করে র্যাব। র্যাব বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন মানুষকে সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি। র্যাব-৩ এর ডিএডি (কোম্পানি কমান্ডার) মো. খালেকুজ্জামান ৯ সেপ্টেম্বর টগরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে র্যাব-৩ গোপন সংবাদে জানতে পারে, লালবাগের আজিমপুরের চায়না বিল্ডিং গলির একটি বাসায় মুশফিক উদ্দীন টগর মাদক কেনাবেচা করছে। ওইদিন বিকাল চারটার দিকে র্যাব ওই বাসার দিকে যায়। র্যাব সদস্যরা সেখানে উপস্থিত সাক্ষীদের দেহ তল্লাশি করে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। র্যাবের বের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে টগরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে গুলিসহ রিভলবার রয়েছে। তার দেখানো মতে, রুম থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, লোহার তৈরি ১টি ম্যাগাজিন, ১টি কাঠের পিস্তলের গ্রিপ, ০১টি ৭.৬২ কেএফ মিসফায়ার গুলি যার দৈর্ঘ আড়াই সে.মি, ১৫৫ রাউন্ড .২২ রাইফেলের গুলি, ১টি শর্টগানের খালি কার্তুজ, মানুষের মুখায়বের দুটি মুখোশ ও ২টি মোবাইল রয়েছে, যা জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্রের কোনও বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা, চানতে চাইলে টগর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। জব্দ করা মোবাইলের মাধ্যমে মুখোশ পরে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় টগর অপরাধ করে আসছিল বলে অভিযোগ র্যাব-৩ এর কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কেমিকৌশল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনি।
বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছিলেন সনি। ২০০৩ সালের ২৯ জুন ঢাকার বিচারিক আদালতে সনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর, মোকাম্মেল হায়াত খান ওরফে মুকিত ও নুরুল ইসলাম ওরফে সাগরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরে ২০০৬ সালের ১০ মার্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সাজা কমিয়ে তাদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে দুজনকে খালাসও দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত ছয় আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে আছেন। মোকাম্মেল ও নুরুল এখনও পলাতক। সাজাভোগের পর টগর ২০২০ সালের ২০ অগাস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান টগর।