গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্র ইয়াসিন শেখকে (১২) র্যাকেট দিয়ে পিটিয়ে ও রড ঢুকিয়ে স্কুল হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বরইহাটি গ্রামের বড়বাড়ির পাশের বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী মারা যায়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যার দিকে গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ইয়াছিন বরইহাটি বড়বাড়ি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে ও বরইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযুক্ত রিফাত শেখ একই গ্রামের জামাল শেখের ছেলে ও বরইহাটি আইডিয়াল হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বরইহাটি আইডিয়াল হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র রাব্বী শেখ বলেন, রিফাত শেখসহ চার জন ব্যাডমিন্টন খেলছিল। পাশে বসে ইয়াছিন সহ ৩/৪ জন ব্যাডমিন্টন খেলা দেখছিল। খেলায় রিফাত শেখ হেরে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইয়াছিনের নতুন স্যান্ডেলে ধুলাবালি ছিটিয়ে দেয়। এতে ইয়াছিন ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাতকে ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে রিফাতের হাতে থাকা র্যাকেট দিয়ে তাকে আঘাত করে। র্যাকেট ভেঙে গেলে র্যাকেটের রড দিয়ে কোপ দেয় এবং রড কানের নিচ ঘাড়ে ভেদ করে যায়। এতে ইয়াসিন মারাত্মক আহত হয়।
মুকসুদপুর উপজেলার সিন্ধয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আলমগীর হোসেন বলেন, ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। র্যাকেট দিয়ে আঘাত করার পর তা ভেঙে যায়। পরে র্যাকেটের রড কানের নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে তাকে মাদারীপুর উপজেলার রাজৈর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।
ইয়াছিনের ফুফু নাজমা বেগম ও চাচা দেলোয়ার শেখ বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি। লাশ পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হবে।