জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও কাজ দিয়ে জয়ী হয়েছেন। ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের প্যানেলের ভরাডুবির মধ্যেও তাঁরা এই জয় পেলেন।
ওই দুই প্রার্থী হলেন ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী মাহমুদুল হাসান কিরণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিজয়ী মহিবুল্লাহ শেখ (শেখ জিসান আহমেদ)। এর মধ্যে মাহমুদুল হাসান কিরণ জাকসুতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭৭৮টি ভোট পান। অন্যদিকে মহিবুল্লাহ শেখ সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ২ হাজার ১৮টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ২৫ পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ২০টিতেই ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট জয় লাভ করেছে। ছাত্রদল ও বামপন্থীদের প্যানেল থেকে একজনও জয়লাভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত মাহমুদুল হাসান কিরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল দলের অনূর্ধ্ব-২৩–এর খেলোয়াড়। ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেডস সোসাইটি, বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে খেলেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে খেলার মাঠে বারবার চমক দেখিয়ে ক্যাম্পাসে জনপ্রিয়তা অর্জন করে নেন তিনি। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় কিরণ যে ইশতেহার দিয়েছিলেন, সেগুলোও ভোটারদের নজর কাড়ে বলে মনে করেন অনেকে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির জয় বলেন, ‘ফুটবলার হিসেবে কিরণের যে জনপ্রিয়তা ক্যাম্পাসে রয়েছে, আমি মনে করি, তার থেকেও ব্যক্তি কিরণ বেশি জনপ্রিয়। অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর এই সেবামূলক কাজ শিক্ষার্থীদের কিরণকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে।’
অন্যদিকে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত মহিবুল্লাহ জিসান নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি শেখ জিসান আহমেদ নামে ক্যাম্পাসে পরিচিত। ক্যাম্পাসে শুরু থেকেই ‘জিসু এন্টারটেইনমেন্ট’ নামক ফেসবুকে প্ল্যাটফর্ম খুলে বিভিন্ন সিনেমার জনপ্রিয় অংশ রিমেইক করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। সিনেমা নিয়ে কাজ করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেগুলো নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন অনেকে।
এ বিষয়ে মহিবুল্লাহ শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য প্রার্থীরা যেখানে নির্বাচনের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে প্রচারের কাজ শুরু করেছেন, সেখানে আমি পাঁচ বছর ধরেই আমার কাজের মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছি। সে জায়গা থেকে নির্বাচনের আগেই আমি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলাম, যেটা নির্বাচনে আমাকে জয়ী হতে সহায়তা করেছে।’