বিশ্বে বিভিন্ন দলের ব্যর্থতায় কোচরা নিজে থেকে চাকরি ছাড়েন কিংবা তাদের তাৎক্ষণিক বিদায় করে দেওয়া হয়। এই যেমন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চতুর্থ রাউন্ডে সৌদি আরব ও ইরাকের কাছে হেরে ইন্দোনেশিয়ার বিশ্বকাপে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। দলকে বিশ্বকাপে তুলতে ব্যর্থ হয়ে চাকরি ছেড়েছেন কোচ প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট। কিন্তু বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলেও বহাল তবিয়তেই আছেন!
চুক্তি থাকলেও ৯ মাস আগেই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডস ও বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ডের ইন্দোনেশিয়ার কোচিং অধ্যায় শেষ হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (পেএসএসআই) সঙ্গে পারস্পরিক সমঝতায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন ক্লুইভার্ট। এক বিবৃতিতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ‘ক্লুয়িভার্টের বিদায় নিয়েছেন পারস্পরিক সমঝোতায় সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে।’
ইন্দোনেশিয়ার ডাগ-আউটের দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বার্তায় ক্লুয়িভার্ট ইনস্টাগ্রামে লিখেন, ‘এক অবিস্মরণীয় যাত্রা ছিল এটি। যদিও আমরা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারিনি, তবু আমরা একসাথে যা করেছি, তার জন্য গর্বিত।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মূল পর্বে নিতে পারেননি স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা। দল মাত্র দুই পয়েন্ট অর্জন করেছে। সব মিলিয়ে কাবরেরার অধীনে ৩৫ ম্যাচে জয়ের সংখ্যা আগের ইংলিশ কোচ জেমি ডের সমান ৯। ১৭ হারের বিপরীতে ড্র ৯টি। কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের সাফল্যের গড় ২৫.৭১ শতাংশ।
২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ অধ্যায় শুরু করা কাবরেরার সাফে সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া ছাড়া মোটাদাগে কোনও সাফল্য নেই। অথচ জামাল ভূঁইয়াদের নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কোচের দায়িত্ব তার কাঁধে। যতই ব্যর্থতা আসুক না কেন, কাবরেরা শুধু সামনের দিকে তাকাতে চান। অথচ এখনও দল গঠন ঠিকমতো করতে তাকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। অধিকাংশ সময় স্পেনে থাকেন, খেলার কিছু দিন আগে ঢাকায় আসেন। এই যেমন হংকং থেকে দেশে ফিরে গেছেন।
এছাড়া মাঠে খেলোয়াড়দের পজিশন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা তো রয়েছেই। মুখ চেনা কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স না থাকলেও খেলিয়ে যান। যেখানে শমিত-জামালরা থাকেন ব্রাত্য! তাই একাধিক ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ নিয়ে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও কথা বলতে হয়।
হামজা চৌধুরীদের মতো উঁচু মানের খেলোয়াড় দলে রয়েছেন। রয়েছেন এক ঝাঁক প্রবাসী। তাদের ঠিকমতো দলে কতটা পরিচালনা করতে পারেন এ নিয়ে প্রশ্ন অনেকের। সেই যোগ্যতা কোচের কতটুকু আছে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তার পরেও কাবরেরা টানা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ এপ্রিল পর্যন্ত থাকবেন। তাবিথ আউয়ালের বাফুফেও অজানা কারণে কাবরেরার ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে।
এবার এশিয়ান কাপে অপেক্ষা কৃত সহজ গ্রুপ পেয়েও বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ। এরপর নতুন বছরে মার্চের আগে খেলা নেই। সব মিলিয়ে কাবরেরার কোচিং ভাগ্য এভাবেই চলবে নাকি ব্যতিক্রম কিছু হতে পারে তা সময় বলে দেবে।