চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিলের পর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। প্রতিবেদন লেখার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
এসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সহ রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছেন।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন কারচুপির পাঁয়তারা চলছে। আমরা খোঁজ পেয়েছি বেশ কয়েকটি অনিয়মের। তাই আমরা শাহবাগে প্রতিবাদী অবস্থান করছি।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছি, এই চাকসুতে যদি আর সামান্য পরিমাণও অনিয়ম লক্ষ্য করি এবং ফল পাল্টে দিয়ে কাউকে বিজয়ী করার পরিকল্পনা করা হয় তাহলে আমরা আগামীকাল থেকে তার জবাব দ
তিনি আরও বলেন, সেই জবাব এত কঠোর হবে যে পুরো বাংলাদেশের রাজনীতির হিসাব আমরা উল্টে দিব।
ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ডাকসু এবং জাকসুতে কারচুপি করে তারা পার পেয়েছে। এই চাকসুতে আমরা সেটি মেনে নিব না। আবারো বলছি, চাকসুর কোন কারচুপি ছাত্রদল মেনে নিবে না। যেই ভাষায় জবাব দেওয়ার প্রয়োজন সেই ভাষাতেই আমরা জবাব দেব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন, কোন ধরনের কারচুপি যেন না হয়।
অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জামায়াত-শিবির তাদের ক্যাডারদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে জড়ো করেছে চাকসু নির্বাচনের উপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য।
চাকসু নির্বাচনে যদি ভোট কারচুপি করা হয় তাহলে ছাত্রদল সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার জবাব দিবে। আমরা এই বার্তা চাকসু প্রশাসনকে পৌঁছে দিতে এখানে জড়ো হয়েছি।
ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছে
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল এবং হোস্টেল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল অংশ নেয়; ২৩২টি পদের জন্য মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।