চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক অটোরিকশাচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়েছে। আজ বুধবার ভোরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের শেখপাড়া এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালককে খুন করেন আটক ব্যক্তিরা। পরে ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশাটি বিক্রি করতে গিয়ে তাঁরা আটক হয়েছেন। অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত অটোরিকশাচালকের নাম হাবিবুর রহমান (১৬)। সে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে সে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের গোডাউন সড়কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকত। অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাত সে।
আটক দুজন হলেন মো. বাপ্পী ও রাজীব। তাঁরাও সন্দ্বীপের বাসিন্দা। তবে দুজন সীতাকুণ্ড পৌর সদরের শেখপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। খুনের ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন নামের একজন পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবেশে ভোরে হাবিবুর রহমানের অটোরিকশায় উঠেছিলেন তিন ছিনতাইকারী। রাস্তা ফাঁকা পেতেই হাবিবুরের ওপর আক্রমণ শুরু করেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম ও গলা কেটে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়। পরে এই অটোরিকশা বিক্রি করতে বাপ্পী ও রাজীব স্থানীয় একটি গ্যারেজে যান।
পুলিশ জানায়, গ্যারেজের মালিক অটোরিকশাটির দাম জানতে চান। তবে মাত্র ১০ হাজার টাকা দাম চাওয়া হলে তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি অটোরিকশায় লিখে রাখা একটি মুঠোফোন নম্বরে ফোন দেন। তখন ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, অটোরিকশাটি ছিনতাই হয়েছে। এ সময় চারপাশে থাকা লোকজন দুজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা চালককে খুন করে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাঁদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এর আগে ভোরে অটোরিকশাচালকের লাশটি মহাসড়কে একটি ময়লার ভাগাড়ের পাশ থেকে উদ্ধার হয়।
অটোরিকশাচালককে খুনের প্রতিবাদে আজ বেলা একটার দিকে থানার সামনে মানববন্ধন করে অটোরিকশা শ্রমিক দল। তারা চালককে খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিহত অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।