চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আজিজুর রহমান আজিজকে ফের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৯ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর আজিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত থেকে আজিজুর রহমান আজিজকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা এক চাঁদাবাজির মামলায় এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি আজিজ। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেফতার দেখায় ডিবি। আজিজের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও জাল-জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বাদী এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তেজগাঁও এলাকার এরশাদ গ্রুপের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে আসছিল আজিজ ও তার সহযোগীরা।
তার অভিযোগ, এবি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে গড়ে তোলা তাদের রড তৈরির কারখানার মেশিনারিজ ও মালামালও লুট করে নেয় আজিজ ও তার সহযোগীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় পৃথক মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।
এরশাদ আলী বলেন, ‘শামীম ওসমানের সহযোগী আজিজসহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্যাডারদের চাঁদাবাজি ও লুটপাটে এরশাদ গ্রুপ নিঃশেষ হয়ে গেছে। ঋণ খেলাপি হওয়ার মূল কারণও এই চক্রের দৌরাত্ম্য।’
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৩০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়—এরশাদ গ্রুপের গুদাম ও কারখানা দখল, মালামাল লুট এবং ব্যবসায়িক চাঁদা আদায়ের সঙ্গে আজিজ ও তার সহযোগীরা সরাসরি জড়িত।