বিতর্কিত মার্কিন সমাজকর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক বিদ্বেষ ঠেকানোর নামে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বিভক্ত হয়ে গেছেন রক্ষণশীলরা। ঘৃণা ছড়ানোর ঠেকাতে কেউ কেউ কঠোরতার প্রয়োজনীয়তা দেখলেও অনেকে মনে করছেন, এভাবে জনগণের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে সরকার।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এক কলেজ ক্যাম্পাসে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সী চার্লি কার্ক। সেখানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই তার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এমনকি রসিকতাও করছেন মানুষ।
বন্দুক নীতির কট্টর সমর্থক কার্ক একবার বলেছিলেন, মাঝেমধ্যে বন্দুক সহিংসতা হলে মানুষ আত্মরক্ষার্থে বন্দুকের প্রয়োজনীয়তা বুঝবে। তিনি বিভিন্ন স্কুলে বন্দুক প্রশিক্ষণ বা প্রয়োজনে অস্ত্র দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছিলেন। এসব নিয়েই সামাজিক মাধ্যমে হয়েছে ব্যাপক কটাক্ষ।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এসব কথি ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) প্রধান ব্রেন্ডান কার টেলিভিশনে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের পর সম্প্রচারকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে হুমকির ওপরই রেখেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যারা কার্কের হত্যাকাণ্ডে উল্লাস করেছে তাদের চাকরি যাওয়াই উচিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিদেশি নাগরিক ও মার্কিন সেনাদেরও এ ধরনের আচরণের জন্য শাস্তি দিয়েছেন।
অনেকে বলছেন, ডেমোক্র্যাটদের ‘ক্যান্সেল কালচারের’ সমালোচনা করা রিপাবলিকানরা এখন একই নৌকায় উঠেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি ‘কনসিকোয়েন্স কালচার’।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের ভাষ্য, ক্যানসেল কালচারের কারণে কেউ চাকরি হারাচ্ছে না, তারা হারাচ্ছে কনসিকোয়েন্স কালচারের কারণে।
ট্রাম্প অবশ্য বন্ডি ও কারকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ক্যানসেল কালচার ও কনসিকোয়েন্স কালচারের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, আমি মুক্ত মতপ্রকাশের দৃঢ় সমর্থক। যদিও একই বক্তব্যে তিনি মিডিয়াকে পক্ষপাতমূলক কাভারেজ করার জন্য দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট শাসনামলে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বক্তব্য বা বিশ্বাস পছন্দ না হলে, তাদের বয়কটের ডাক দিয়ে মাঠে নামতো বিরোধিরা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত, ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মূল্ধারার সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই একরকম একঘরে হয়ে যাচ্ছেন। ওই প্রবণতাকে বলা হতো ক্যান্সেল কালচার আর এর ব্যাপক প্রসারের জন্য দায়ী করা হতো ডেমোক্র্যাটদের।
শীর্ষ রিপাবলিকানরাই ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের উপদেষ্টা কার্ল রোভ, সিনেটর টেড ক্রুজ এবং টাকার কার্লসনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, সরকারের এই ধরণের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করতে পারে এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
ক্রুজ বলেন, অপছন্দের বক্তব্যের প্রচারের কারণে সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানার হুমকি ভয়ঙ্করভাবে বিপজ্জনক একটি চর্চা।
মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা প্রথম সংশোধনীর বিষয়ে বলছেন, ঘৃণামূলক হলেও বক্তব্য দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, আর বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রম সেই অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ক্যানসেল কালচারকে নতুন স্তরে নিয়ে গেছে, যেখানে মিডিয়াকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
এই অভিযোগ অস্বীকার করে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা টেইলর বুডোভিচ বলেন, প্রশাসন মুক্ত মতপ্রকাশে বিশ্বাসী। তবে সবাইকে সচেতনভাবে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স