বড় ধরনের সামরিক রদবদলের অংশ হিসেবে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ঝাং শেংমিনকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদে নিয়োগ দিয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি দমনে ভূমিকা রেখে আসছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
চার দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শেষে ঝাংকে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) দ্বিতীয় উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি চীনের সর্বোচ্চ সামরিক সংস্থা সিএমসি-তে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রথম উপ-চেয়ারম্যান ঝাং ইয়ৌশিয়ার পর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন।
মাত্র কয়েক দিন আগে ৯ জন জেনারেলকে সামরিক কমিশন থেকে বহিষ্কার করা হয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ কেবল দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নয়, বরং শি জিনপিংয়ের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করার রাজনৈতিক পদক্ষেপও হতে পারে।
এটি সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কমিউনিস্ট পার্টির সেনাবাহিনীতে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য শুদ্ধি অভিযানগুলোর একটি। এর আগেও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফংহে ও লি শাংফুর মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
৬৭ বছর বয়সী ঝাং শেংমিন পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) রকেট ফোর্সের একজন জেনারেল। তিনি এর আগে সিএমসি-র দুর্নীতি দমন শাখার উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত কেন্দ্রীয় প্রদেশ শানশির সন্তান ঝাং ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সামরিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য কঠোর অবস্থানের কারণে পরিচিত।
একই বৈঠকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি একটি নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি নীতি নথি অনুমোদন করেছে। এতে ‘বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা’কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন চীনের প্রযুক্তি খাতের ওপর যেভাবে চিপ ও সফটওয়্যার নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, সেই প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পার্টির নতুন পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া, প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ এবং দেশীয় ভোক্তা ব্যয় বাড়িয়ে রফতানি আয়ের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।