নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ৭২ হাজার কোটি রূপি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত মহাসাগরের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৌশলগত অবস্থানের কারণেও দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে।
'দ্য গ্রেট নিকোবর' প্রজেক্টে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এদিকে, নতুন প্রশাসনিক অঞ্চলের সম্ভাব্য জনসংখ্যাই সর্বোচ্চ চার লাখ। আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনালের ধারণক্ষমতা হবে ১৬ মিলিয়ন কনটেইনার প্রতি বছর। যা কলম্বোর দ্বিগুণ ও সিঙ্গাপুরের প্রায় অর্ধেক।
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ তেলবাহী এবং এক-তৃতীয়াংশ পণ্যবাহী জাহাজ মালাক্কা প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। গ্রেট নিকোবর থেকে মালাক্কা প্রণালির দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। সিঙ্গাপুর, কলম্বো বা পেনাংয়ের বিকল্প হিসেবে ভারত যদি গ্রেট নিকোবরকে একটি প্রধান বন্দর বানাতে পারে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্রে ভারতের প্রভাব বহুগুণে বাড়বে। এর সঙ্গে পর্যটন ও আইটি সেক্টর মিলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইয়ের সমুদ্রপথে প্রভাব মোকাবিলা করতে ভারত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করতে চাইছে নয়াদিল্লি। গ্রেট নিকোবর থেকে ভারতীয় নৌবাহিনী সহজেই দক্ষিণ চীন সাগর ও ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যপথে নজরদারি চালাতে পারবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের 'পূবে তাকাও নীতি' (অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি) এবং সাগার (সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিওন) দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতকে ঘিরে ফেলতে চীনের 'মুক্তার মালা' (স্ট্রিং অব পার্লস) কৌশলের পাল্টা হিসেবে এটি ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে।
গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট ভারতের জন্য অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা—সবক্ষেত্রেই অবস্থান শক্তিশালী করতে একটি তুরুপের তাস হতে পারে। তবে এই উন্নয়ন যদি টেকসই না হয়, তবে কয়েক দশকের মধ্যেই প্রকল্পটি পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে ভুগতে পারে।