চীনের জাতীয় দিবস আর মধ্য-শরৎ উৎসব—দুটি বড় ছুটি একসঙ্গে পড়েছে এবার। চীনজুড়ে যেন উৎসবের ঢেউ বয়ে গেলো। ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানীর থিয়েনআনমেন স্কয়ারে লাখো মানুষের ভিড়, পর্বতমালায় ড্রোন শো, আবার কেউ ছুটেছেন পাহাড়-নদী কিংবা ছোট্ট শহরের মেলায়। সব মিলিয়ে রঙিন, আর নতুন সম্ভাবনায় ভরা চীনের নতুন অর্থনীতির উড্ডয়নের ছবিটাই যেন পরিষ্কার হলো এবারের ছুটিতে।
১ অক্টোবর থিয়েনআনমেন স্কয়ার রীতিমতো জনসমুদ্র। ১ লাখ ২১ হাজার মানুষ অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন সেই মুহূর্তের দিকে—সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উড়বে জাতীয় পতাকা।
২৭ বছরের থাও বুফান বললেন, ‘প্রতিবারই এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করি—এটা যেন নিজের দেশকে ভালোবাসার এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি।’
এবারের আট দিনের ছুটিতে চীনের ভেতর ভ্রমণ ও ভোক্তাব্যয় দুটোই যেন উড়েছে রকেটে চড়ে। শুধু বেইজিং নয়, প্রাদেশিক শহরগুলোয় এখনও চোখ ধাঁধাচ্ছে সাংস্কৃতিক উৎসবের ছটা।
উত্তর চীনের হবেই প্রদেশের থাংশানে বিনামূল্যের কনসার্টে দর্শকদের ঢল নেমেছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রধান ওয়েন ছাও বললেন, ‘আমরা চাই মানুষ যেন এই ছুটিটা সংস্কৃতি আর আনন্দে ভরে কাটায়।’
তার অনুমান অনুসারে, এবারের ছুটিতে চীনে ১২ হাজারেরও বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4f04cc5f83" ) );
পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবহনেও দেখা গেলো চমকপ্রদ দৃশ্য। ছুটির প্রথম ভাগেই ১২৫ কোটি যাত্রী পরিবহন হয়েছে দেশজুড়ে! হাইওয়ে, রেল, নৌ ও আকাশপথ—সবখানেই দেখা গেছে রেকর্ড ভিড়, যা স্পষ্টতই আধুনিক ও সংযুক্ত চীনের প্রতীক।
মজার ব্যাপার হলো, বড় শহর ছাড়াও এবার নজর কাড়ছে ছোট শহরের সৌন্দর্য। অনলাইন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম ছুনার-এর তথ্য বলছে, চিউচাইকৌ আর পিংথানের মতো জায়গাগুলো এই শরতের নতুন ‘হটস্পট’। পূর্ব চীনের নানচিং থেকে চান নামের এক পর্যটক বন্ধুদের নিয়ে পাশের চ্যচিয়াং গেছেন বাস্কেটবল খেলা দেখতে। চান বললেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, আর পাশে স্ন্যাকসের গন্ধ—এ যেন ছুটির সেরা মুহূর্ত।’
এবারের ছুটিতে চীনের নতুন ট্রেন্ড, ‘লো-অলটিচিউড বাস’। চ্যচিয়াংয়ের হাংচৌতে খোলা হয়েছে এয়ার-সাইটসিয়িং বেস। ৫০০ মিটার উঁচুতে হেলিকপ্টার চড়ে দেখা গেলো মনোরম শরৎ।
চীন সরকারের মধ্যেও প্রচেষ্টার কমতি নেই। ভোক্তাদের উৎসাহ দিতে আগেই বরাদ্দ হয়েছে ৬৯০০ কোটি ইউয়ানের বিশেষ বন্ড। এ বছরে এ ধরনের বন্ড ইসু হয়েছে মোট ৩০ হাজার কোটি ইউয়ানের। শুধু জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩৩ কোটি মানুষ এই ‘ট্রেড-ইন’ প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে কিনেছেন ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের পণ্য!
স্থানীয় প্রশাসনগুলোও এনেছে অভিনব উদ্যোগ। আনহুইতে চালু হয়েছে ‘ক্রেডিট-ভিত্তিক ট্রাভেল প্রোগ্রাম’—যেখানে আগাম টাকা না দিয়েই হোটেল ও টিকিট বুক করা যাচ্ছে। থিয়েনচিনে চলছে উৎসবমুখর ‘ফাইন্যান্সিয়াল কনজাম্পশন’ ক্যাম্পেইন।
সরবরাহ বাড়লে তৈরি হবে নতুন ভোক্তা মডেল। আর সেইসঙ্গে বিভিন্ন খাতের সমন্বয়ে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার হয়ে উঠেছে আরও বহুমাত্রিক, প্রাণবন্ত ও অনুকরণীয়। অর্থাৎ, চীন কেবল রোবট নয়, বাজার অর্থনীতির প্রযুক্তিতেও দেখাচ্ছে একদম নতুন কিছু।
সূত্র: সিএমজি