বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোনও দাবি আলোচনার টেবিলে রেখে রাজপথে যাওয়া স্ববিরোধিতা ছাড়া কিছুই নয়। আমরা মনে করি, পিআর নিয়ে আন্দোলন করা কারও কারও রাজনৈতিক অধিকার হতে পারে। তারা তাদের কথা বলবে, আমরা আমাদের কথা বলবো। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার টেবিলেই সংকট সমাধান করা যেতে পারে। কোনও কারণে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে পতিত ফ্যাসিবাদ লাভবান হবে।
বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় দফার প্রথম দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সবাই মতামত দিলে আমরাও বিবেচনায় নিতে পারি। তবে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের সনদে স্বাক্ষর করেই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি মনে করেন, কিছু মৌলিক সংস্কারমূলক বিষয় বাস্তবায়নে সংসদীয় গণভোটেরও প্রয়োজন হতে পারে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে একই বিষয়ে দুবার গণভোটের প্রয়োজন কেন? এ বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমেই সুরাহা করতে হবে।
সালাহ উদ্দিন বলেন, সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের আগে বিচার বিভাগের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সাংবিধানিক আদেশ আজ বা কাল চ্যালেঞ্জও হতে পারে, কিন্তু এটা খারাপ দৃষ্টান্ত হবে বলে মনে করছি না।
তিনি বলেন, অনেকে ১০৬ ধারা অনুযায়ী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাহলে প্রধান উপদেষ্টার একনেক বৈঠক সঠিক কিনা।
তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আইন অনুযায়ীই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। আর ২২ অনুচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কারণ সেখানে জনগণের অভিপ্রায়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা সংকট সমাধানের জন্য কিছু বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। সেটা হতে পারে সাংবিধানিক আদেশ, অথবা রাজনৈতিক ঐকমত্য।
সালাহ উদ্দিন মনে করেন, কোনও কারণে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে পতিত ফ্যাসিবাদ লাভবান হবে; যার দায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক শক্তির ওপরই বর্তাবে।
ব্রিফিংয়ে আরও ছিলেন– বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবি উল্লাহসহ যুগপতের শরিক দলের নেতারা।