দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ ও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমাকেও শুনতে হয়েছে—উনি কী আমাদের লোক? এটি ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে।’
শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বলেন, ‘গত নভেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ শুরু করেছি। সেই অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। আমরা একটা জায়গায় এখনও হতাশা থেকে বের হতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন, পুলিশ কমিশন এখনই করতে হবে। রাজনৈতিক সরকার এলেই হবে না। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী?’
‘রাজনৈতিক প্রভাব থেকে স্বতন্ত্র কাঠামোতে নিতে হবে’
বাহারুল আলম বলেছেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা আমাদের অভিভাবক। তাদেরই আস্থায় রাখতে হবে। উনারা দেশ চালাবেন, কিন্তু কোনও প্রভাব বিস্তার করবেন না—আমরা সেই জায়গায় কবে যেতে পারব? পুলিশকে একটি স্বতন্ত্র বডির আওতায় নিয়ে যান।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত দেড়শ বছরে যা হয়নি, পুলিশকে নিজ স্টেশন থেকে পালাতে হয়েছে—এত ঘৃণা কীভাবে তৈরি হলো? গত ১৫ বছরে আমরা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছি, আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে।’
‘মামলায় নির্দেশনা নয়, কার্যকর স্বাধীনতা চাই’
আইজিপি বাহারুল বলেন, ‘মামলা তদন্ত ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে যেন কোনও নির্দেশনা না আসে। আইন অনুযায়ী কাজ করতে দিন। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ধারা ৩-এ সরকারের অসীম ক্ষমতা রয়েছে—সেটি পরিবর্তন করতে হবে। নতুন পুলিশ আইন হওয়া উচিত, সৌভাগ্য হলো অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।’
বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। আলোচনা পত্র উপস্থাপন করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অব.) ইয়াসমিন গফুর।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন—আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা, অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি এম আকবর আলী, মানবাধিকার কর্মী নূর খান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জামায়াত নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কাজী মো. ফজলুল করীম।