গত একবছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের মূল ধারার গণমাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে অতিরঞ্জিত খবর এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ধরনের অসত্য খবরের প্রতিবাদ জানানো হলেও ভারতে সেই প্রবণতা এখনও যে পুরোপুরি থেমেছে বলা যাবে না।
তবে নাগরিকের ধর্মাচরণের অধিকারের প্রশ্নে বাংলাদেশের বহুদিনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’।
সেই নীতিকে সম্মান জানিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাস এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কালীপূজা- দীপাবলী- ভাইফোঁটার উৎসবমুখর সময়কে উদযাপন করলো এক অভিনব পন্থায়।
এই তিনটি উৎসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের এক আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন ভিডিও নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
আর এই আয়োজনের গোটা পরিকল্পনাটা করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ’র। তিনি এই উৎসবের সময়ে ভারতকে মনে করিয়ে দিয়েছেন - প্রতিবেশী বাংলাদেশও মহাসমারোহে এই উৎসবগুলো পালন করে থাকে!
কালীপূজা-দীপাবলী–ভাইফোঁটা যে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বাকি সবারই উৎসব – সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে।
ভিডিওটি পোস্ট করে হিন্দি, বাংলা ও ইংরিজিতে দীপাবলি, কালী পূজা এবং ভাইফোঁটার শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে কার্তিকের অমাবস্যায় লক্ষ প্রদীপের চোখ ফোঁটে, মুন্ডমালীনি কালীর মন্দহরা ত্রিনয়নের মতো। যেন অসীম অজানা আঁধারের বুকে জেগে থাকে অগণিত তারা। আলোর উৎসব দিপাবলীর মাতৃকা সাধনের মন্ত্র নিয়েই, এ মাটির কন্যারা ভাইয়ের কপালে আবার এঁকে দেয় শুভচিহ্ন। সকলকে শুভ দীপাবলী - ভাইফোঁটা - কালীপূজার শুভেচ্ছা।’
ভিডিওটি নির্মাণ করেছে ঢাকার সুপরিচিত সংস্থা গুপী বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড। আর ইউটিউবে সেটি প্রকাশ করেছে নয়া দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন।
হাই কমিশনারের এই পোস্ট ইতোমধ্যে ভারতে সাড়া ফেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বহু ভারতীয় এই উদ্যোগের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করছেন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্রটি তুলে এই ভিডিওটি খুব সহায়ক হবে বলেও তাদের অনেকে মন্তব্য করছেন।