ঝিনাইদহ করেসপনডেন্ট:
ঝিনাইদহে দেনার টাকা পরিশোধ করতে সিজারের মাধ্যমে সদ্যপ্রসূত সন্তানকে (ছেলে) দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছেন মা সুমাইয়া খাতুন। বিনিময়ে মিলেছে হাসপাতালের বিল পরিশোধ ও নগদ ৬৫ হাজার টাকা। আর এতে সহযোগিতা করেন ক্লিনিকের নার্স ইসমোতারা।
বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার (১আক্টবর ২০২৫) বিকেলে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়।
এ সময়, হাসপাতালটির কাগজপত্রে ত্রুটি ও হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না থাকায় মালিক সেলিম রেজা বাবুকে ৬ মাসের কারাদন্ড এবং শিশু সন্তার বিক্রির সহযোগিতাকারী হিসেবে নার্স ইসমোতারাকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপার মোড়ের পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। সুমাইয়া খাতুন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আনছার মোড়ের সাত্তার আলীর ছেলে মৃত আলামিনের স্ত্রী।
সুমাইয়া খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ৪ মাসের গর্ভবতী থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুমাইয়া খাতুনের স্বামী আলামীন মারা যায়। এরপর থেকে সুমাইয়া জীবনে নেমে আসে চরম সংকট। স্বামী কিংবা পিতা কোনো বাড়িতেই ঠাই মেলেনি তার। অবশেষে বৃদ্ধা নানির বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
পরে মঙ্গলবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে এক প্রতিবেশির মাধ্যমে স্থানীয় এক ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্মদেন সুমাইয়া। পরে অভাবের তাড়নায় সদ্যপ্রসূত সন্তানকে দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বিনিময়ে মিলেছে হাসপাতালের বিল পরিশোধ ও কিছু নগদ টাকা।
নবজাতকের মা সুমাইয়া খাতুন জানান,স্বামীর মৃত্যুর পর গর্ভবস্থায় না পেয়েছি স্বামীর বাড়িতে ঠাই না পেয়েছি বাবার বাড়ি। গর্ভবতী অবস্থায় এমনিতে লোকের কাছে ধারদেনা করে করে কোনোমতে চলেছি। ক্লিনিকের খরচ সন্তান মানুষ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সে কারণে নবজাতক সন্তাকে দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরও বলেন, যারা দত্তক নিয়েছে তাদেরকে আমি চিনি না, শুধু শুনেছি তাদের বাড়ি কুমিল্লায়।
এ ঘটনায় পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক সেলিম রেজা বাবু জানান, সিজারের পর রোগীর দেখাশোনা ছাড়া আমার করার কিছু নেই। রোগী যদি কারও সাথে আপস করে সন্তান দিয়ে দেয় সেটার জন্য আমি দায়ী নই।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, ক্লিনিকের কাগজপত্রে ত্রুটি ও হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না থাকায় পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক সেলিম রেজা বাবুকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও শিশু বিক্রির সহযোগিতাকারী নার্সকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
/এএইচএম