ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করেছে অভিযোগ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদের সই করা এক বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা জানান ডাকসু নেতারা।
এতে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায় থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া মস্তিষ্ক’, ‘ট্রেন্ডে গা ভাসানো’, ‘দাসী’, ‘পশ্চাৎপদ’ ইত্যাদি ঘৃণিত বিশেষণে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফজলুর রহমান ঢাবিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ঢাবি শিক্ষার্থীদের প্রতি তার চরম বিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভাজনের বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে এমন ঘৃণ্য মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত।
বিবৃতিতে ডাকসু নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অসাম্প্রদায়িক, মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্র এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার। ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঢাবি ইতোমধ্যে একটি মাল্টি-কালচারাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে শতবর্ষ পার করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষে প্রকাশিত ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী বক্তব্য শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বরং ঢাবি গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের অবমাননা।
প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে তার এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নিন্দনীয় বক্তব্যের জন্য ঢাবি শিক্ষার্থী সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভেদমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে জামায়াত নেতা আমির হামজার দেওয়া ‘বিব্রতকর’ মন্তব্যের জন্য কোনও ধরণের বিবৃতি না দিলেও এ বিষয়ে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমির হামজা যেটা করেছে সেটা মিথ্যাচার। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন নি, যেটা ফজলুর রহমান করেছে। তিনি ডাকসু, ডাকসুর ভোটার এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন।
তবে আমির হামজা যেটা করেছেন তার জন্য সবার আগে আমি তাকে ফোন দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেছি এবং তিনি পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চেয়েছেন।