দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশিরভাগ হলে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো, কারণ সেগুলোর রিফিলের মেয়াদ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। জানা গেছে, আটটি হলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ, চারটিতে কোনও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই, দুটিতে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ নেই, আর মাত্র তিনটি হলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে মোট আটটি হলে। এগুলো হচ্ছে- কবি সুফিয়া কামাল হল (মেয়াদ শেষ ৭ আগস্ট ২০২৩), হাজী মোহাম্মদ মোহসিন হল (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪), শামসুন্নাহার হল (১২ অক্টোবর ২০২৪), জহুরুল হক হল (১০ অক্টোবর ২০২৪), ফজলুল হক মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের সন্তোষ ভবন (৬ মে ২০২৪), রুকাইয়া হল (১০ অক্টোবর ২০২৪) এবং বিজয় একাত্তর হল (১৯ মার্চ ২০২৪)।
আর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, কবি জসীমউদ্দীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল এবং স্যার এফ. রহমান হলে কোনও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা যায়নি। এছাড়া কুয়েত মৈত্রী হল, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে কোনও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা ছিল না। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও আমার একুশে হলের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো রিফিল করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে পানিনির্ভর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা গেছে।
রিফিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ‘অব্যবহারযোগ্য বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ।
ঢাবির প্রকৌশল দফতর জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতির দুটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টেন্ডার অনুমোদনে বিলম্ব, আরেকটি হলো হল কর্তৃপক্ষের রিফিলের জন্য আবেদন না করা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী (২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৭৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে এসব ঘটনায় কেউ মারা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্নি-ঝুঁকিতে রয়েছে, এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে।
গত ১৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অফিস ত্যাগের আগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। মাউশির নোটিশে বলা হয়, প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রুম ছাড়ার আগে ফ্যান, লাইট, কম্পিউটার ও এসির প্লাগ খুলে রাখতে হবে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমবে এবং বিদ্যুৎ অপচয়ও রোধ হবে।
গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে আগুনে পুড়ে ১৬ জনের মৃত্যুর পর এই নির্দেশনা দেয় মাউশি।